এই সংখ্যার লেখা

  • নদীর পাড়-ভাঙা অবয়বের মধ্যেই প্রথম ভাস্কর্য গড়ার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাই – আবদুর রাজ্জাক

    নদীর পাড়-ভাঙা অবয়বের মধ্যেই প্রথম ভাস্কর্য গড়ার অনুপ্রেরণা খুঁজে পাই – আবদুর রাজ্জাক

    সাক্ষাৎকার গ্রহণ : রশীদ আমিন শিল্পী আবদুর রাজ্জাক একজন বহুমাত্রিক শিল্পী। তিনি একাধারে যেমন ভাস্কর্য গড়েছেন, তেমনি ছবি এঁকেছেন প্রচুর – কী জলরঙে, কী তেলরঙে অথবা ড্রইংয়ের বলিষ্ঠ রেখার টানে উদ্ভাসিত করেছেন নানা অবয়ব। এই বহুমাত্রিকতাই যেন তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য। চারুকলা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় ব্যাচের ছাত্র, যুক্ত ছিলেন প্রতিষ্ঠালগ্নের শিল্প-আন্দোলনে, অতঃপর শিক্ষক হিসেবে কাটিয়ে দিয়েছেন কয়েক…

  • সাঈদা কামালের কাছে-দূরে

    শিল্পী সাঈদা কামালের জলরং-প্রদর্শনী শুরু হয় ধানমন্ডি চিত্রক আর্ট গ্যালারিতে ২০ আগস্ট ২০০৪। উদ্বোধন করেন প্রখ্যাত শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী। সাঈদার প্রথম একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন শহরে ১৯৯৩ সালে। ১৯৯৪ সালে ঢাকায় দৃক পিকচার লাইব্রেরিতে এবং ১৯৯৯ সালে জার্মানির হামবুর্গ শহরে। আলোচিত তাঁর চতুর্থ একক প্রদর্শনীতে মোট ৭৬টি জলরঙের ছবি স্থান পেয়েছে। শিল্পী এই…

  • লাইক ফতেহ্আলীর সঙ্গে কল্পসংলাপ

    লাইক ফতেহ্আলীর সঙ্গে কল্পসংলাপ

    ভারতের উদ্যানশিল্পী লাইক ফতেহ্আলীর সঙ্গে সাক্ষাতের বাসনা অনেকদিনের, তিনি সেদেশের অনেকগুলি পার্ক ও উদ্যানের নির্মাতা, সালিম আলীর সঙ্গে পাখিবিষয়ক একটি বই এবং এককভাবে Gardens I Gardening নামের দুটি বই লিখেছেন। তাঁর কোনো বাগান দেখার সুযোগ আমার ঘটেনি, সাক্ষাৎ তো নয়ই, যদিও এমন আকাক্সক্ষা অনেকদিনের। তাই ঢাকার আজিজ মার্কেটে তাঁর গার্ডেন্স্ বইটির বঙ্গানুবাদ (অনুঃ দেবীপ্রসাদ চক্রবর্তী,…

  • হচ্ছে-হবে

    বিষে বিষক্ষয়গল্পটা ফরাসি দেশীয়। বছর চল্লিশ আগের খুশবন্ত সিংহ-সম্পাদিত বিশালাকার ইলাস্ট্রেটেড উইকলি অফ ইন্ডিয়াতে পড়েছিলাম (পাঠক-পাঠিকা জেনে আশ্বস্ত হবেন যে আমার বিদ্যের দৌড় ওই পর্যন্তই)। সে যা হোক, আমার যা নীতি, ‘যদ্দৃষ্টং তল্লিখিতং’ অর্থাৎ যা দেখি তাই লিখি, সেই নীতি-অনুসারে গল্পটা বাংলায় লিখে ফেললাম তখনকার বাগবাজারের যুগান্তর-গোষ্ঠির অমৃত সাপ্তাহিকে আমার ‘কথায়-কথায়’ কলমে। গল্পটা স্বামী-স্ত্রীর বাঁকাচোরা…

  • বাখতিনের সাহিত্যতত্ত্বডায়ালজিজম ও কার্নিভালাইজেশন

    এ-কালের সাহিত্য-সমালোচনা ও জ্ঞানচর্চায় মিখাইল বাখতিন এক অনিবার্য প্রভাবক ব্যক্তিত্ব। ভাষার বহুমাত্রিক আর্থ-বিস্তার সম্পর্কে তাঁর তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা – ডায়ালজিজম, কার্নিভাল, স্পিচ জেন্র প্রভৃতি ধারণা ও পরিভাষা বিভিন্ন দেশে, বিশেষত পশ্চিমে, অত্যন্ত আলোচিত। সাহিত্য-সমালোচনায় বাখতিন-ঘরানা এখন প্রতিষ্ঠিত, বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যবিষয়। ভাষা, উপন্যাস ও বয়ান (ঘধৎৎধঃরাব) বিশ্লেষণে বাখতিনের উপস্থাপিত তত্ত্বকে গত তিন দশক ধরে ইউরোপ ও আমেরিকার…

  • গাব্রিয়েল জাইদের তিনটি কবিতা

    অনুবাদ : আবুল মোমেন অনুরূপকে উৎসর্গিত গান অনুরূপ খুবই তৃপ্তিদায়ক! অনুরূপ আবিষ্কার। অনুরূপ পুনরুজ্জীবন। অনুরূপ কী সুস্বাদু! অনুরূপের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলা অনুরূপে নিজেকে পাওয়া। উহ্ অবর্ণনীয় অনুরূপ। সব সময় আমাদের অনুরূপই দিও। টেবিল সূর্য এখানেই ঈশ্বর। হারিয়ে গেছেন নিশ্চিত এক গ্লাস জলের অতলে। এখানেই ঈশ্বর। বাতাস, সূর্য, টেবিল ঈশ্বর নয়। আমার চোখও ঈশ্বর নয়।…

  • প্রত্যহ শবযাত্রায়

    তুমি একদিনও ঠিক জেগে উঠছ না, অথচ প্রতিদিন কফিনের ভার   নিয়ে আগরবাতির গন্ধমোড়ানো একটা লাশ সমাধিতে রেখে আসছ। ভেবেছ এইসব মৃত আত্মার করুণা নিয়ে তুমি উঠে দাঁড়াবে? কিংবা তোমার ঘন নিশ্বাসের অপেক্ষায় থেকে যারা ইতোমধ্যে ঘুমিয়ে  পড়েছে তাদের আঙুল কেটে জাগরণ দেবে আর বলবে : দ্যাখো, স্নায়ুর সমস্ত সংবেদনা নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি, ওঠো, এবার…

  • প্রত্যহ শবযাত্রায়

    তুমি একদিনও ঠিক জেগে উঠছ না, অথচ প্রতিদিন কফিনের ভার   নিয়ে আগরবাতির গন্ধমোড়ানো একটা লাশ সমাধিতে রেখে আসছ। ভেবেছ এইসব মৃত আত্মার করুণা নিয়ে তুমি উঠে দাঁড়াবে? কিংবা তোমার ঘন নিশ্বাসের অপেক্ষায় থেকে যারা ইতোমধ্যে ঘুমিয়ে  পড়েছে তাদের আঙুল কেটে জাগরণ দেবে আর বলবে : দ্যাখো, স্নায়ুর সমস্ত সংবেদনা নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে আছি, ওঠো, এবার…

  • দুস্থ পদাবলি

    লিখি আজ স্মৃতিকথা – অবিস্মৃত দুস্থ পদাবলি, হারানো সন্তানশোকে মুহ্যমান কবিতার পাণ্ডুলিপি কাঁদে! ২. দিন ছিল আলোভরা দিন ছিল কালো তাড়ানিয়া, লুপ্তপ্রায় স্মৃতিগুলি অন্ধকার দীর্ণ করে আজ। ৩. জমজ সন্তান ছিল – সেইদিন শালুমোড়া প্রচ্ছদে শোভিত, বইয়ের তাক থেকে মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে দেখত পৃথিবী পৃথিবীর রূপ দেখে ঘরকুনো জমজ কবিতা প্রকাশের ভয়ে ছিল ভীত।…

  • গাছ

    এত হিংসা বিদ্বেষের কোন প্রয়োজন হতো এমন রক্তাক্ত ধারাপাত মানচিত্র জুড়ে! যদি মানুষেরা হতো শ্যামল-সবুজ বৃক্ষ বুকভরে তবে ছিল সজীব নিশ্বাস-স্বস্তি। বাগানে যখন দেখি পাতারা আনন্দে লুটোপুটি খায় যে-কোনো বাতাসে, ধর্মবর্ণপরিচয়হীন গাছপালা মানুষ হবে না। তবু গাছের স্বভাব যদি তাদের আত্মস্থ হতো – এমন আশায়হঠাৎ পাতার গন্ধে ভরে ওঠে আমার নির্জন সত্তা গহন রাত্রিতে।

  • মীরার ভজন

    খঞ্জ ভিখিরির মতন আমি নিজে দু’হাত বাড়িয়েছি তোমার দিকদিশে; শূন্য পেয়ালায় দু’হাত রেখে, দ্যাখো, আমি কি আরো বেশি শূন্যতারই দিকে পাতিনি বারবার আমার দুটি হাত? খঞ্জ ভিখিরির মতন আগ্রহে দু’হাত বাড়িয়েছি তোমারই দিকে শুধু – আধুলি নয়তো বা একটি সিকি যেন তুল্য প্রতিমান! – তোমাকে দিতে পারি স্বপ্নমহলের সোনার চাবিকাঠি : বুকের খুব কাছে লুকোনো…

  • তুমি

    তুমি উড়ে যাও মেঘের রাজ্যে তোমাকে যায় না ছোঁয়া তোমার শরীর পাখির পালক খড়ের আগুন অথবা শুভ্র ধোঁয়া। তোমাকে পুষছি পঁচিশ বছর ঘরের বিড়াল ফুলিয়ে রাখছ রোঁয়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে এঁটো কাঁটা খাও দুধের ভাণ্ডে থাবাটি বাড়াও চিতল কোরাল বোয়াল খেয়েছ সস্তায় কিনে আনছি কখনো মেঘনা নদীর পোয়া কাঁঠালের ভুতি খাও শুতি শুতি এখন চাইছ পাকা…