এই সংখ্যার লেখা

  • ওপার-এপার

    সৌভিক রেজা   ময়-মুরুব্বিরা বলতেন বালাই ষাট; সেই ষাটের উলটোদিকে দাঁড়িয়ে তোমার ঝলমলে ডালপালাগুলো দেখি, পাতা আর ছায়াগুলো দেখতে-দেখতে বাইরে যাই। দেখি জারুলের বেগুনিময় ফুলের আলো। বালাই ষাট। মাঝে মাঝে আলো আর বাতাসের কাছ থেকেও দূরে সরে থাকি। এদিক-সেদিক যাই, তোমার ছায়া নিয়ে নিজের ছায়ায় ফিরতে চাই। হেনা, তুমি ষাটের ঘাটে ফুটে-ওঠা আঁধার-আলো-ছায়া

  • পা বাড়াই প্রাণের পথে

    তারিক সুজাত   ১. ঘুমিয়ে ছিলো প্রখর রোদে একলা একটি কূপ তার গভীরের গভীর থেকে তুলে আনলে তুমি জলের ঝলকানি!   ২. আমার শহর শূন্য ব্যথাদীর্ণ বৃক্ষ সারি সারি জানায় বিদায় পা খি আ মা র মেঘে মেঘে দেবে পাড়ি   আমি ধূলিকণা স্মৃতির ডানায় ভেসে শূন্য খাঁচায় এ কা এ কা উ ড়ি  …

  • রামবাবু রোডের সন্ধ্যামালতি (মঞ্জুশ্রী বিশ্বাসকে)

    শামসুল ফয়েজ   রামবাবু রোডের ভাড়াবাসার বারান্দায় ফুটে থাকত লাজুক সন্ধ্যামালতি সকাল-সন্ধ্যায় বেলপাতা-জবাফুল দিয়ে চলত তার পবিত্র আরতি। সন্ধ্যামালতির কপালের মাঝখানে জ্বলজ্বল করত সিঁদুররঙের টিপ। কোলাহলমুখর শহরে নির্জন বাড়িটা ছিল যেন এক আত্মমগ্ন অভিমানী দ্বীপ। তুলসীতলায় প্রতিটা সন্ধ্যায় জ্বলত সুস্নিগ্ধ প্রদীপ।   ব্রহ্মপুত্রের কিনারে, বুড়াপিরের মাজারে, কালীবাড়ি রোডে, লোকনাথ মন্দিরের আঙিনায় থরে থরে ফুটে থাকা…

  • নরকে মোমের আলো

    রাতুল দেববর্মণ   এখানে কুরাত্রি ধড়ফড় করে নিবিয়ে দিয়েছে কুমারী চন্দ্রোদয় বুকের বেবাক ঢেউ উথালপাতাল – নীরবে দেখেছে সব অরণ্যচর   তদন্তে এসেছে যারা – তারা শোনে পাতার ক্রন্দনধ্বনি কিছু পোকা ওড়াউড়ি করে পাতার ফাঁক দিয়ে দেখছে বেওয়ারিশ রোদ নষ্টনাকফুল ছুঁয়ে গন্ধশুঁক গোয়েন্দা কুকুর ফ্যালফ্যাল তাকায় নেশাগ্রস্ত মনিবের দিকে   মরা রক্তের ভাষা বদল হতে…

  • মরি! মরি!

    হাবীবুল্লাহ সিরাজী     প্রথম বালির গায় যদি কোনো ঢেউ লাগে নুনে ভাঙে ঘুম কাঁকড়ার পিঠে কাঁপে আহ্লাদের ছায়া তার মানে ঘোরলাগা ফেনা হাওয়া-গন্ধে সমুদ্রের স্বর মরি! মরি! আমার ধীবর!   দ্বিতীয় অধ্যায় যদি পতঙ্গের পথ পেছনে পাহাড় নিয়ে খোঁজে লতাপ্রেম উবু হয় কোলাহল মাটিরও তো মানে হয় সর্পিল চূড়ায় রাতদিন একাকার অবহেলা আকাশে বিলীন…

  • তর্জনীর নখাগ্রে ইঙ্গিত

    আসাদ চৌধুরী   সবাই আঙুল তুলে কি যেন দেখায় – তর্জনীর নখাগ্রে ইঙ্গিত কিসের আভাস?   সবখানে দেশে কী বিদেশে, এই একঘেয়ে দৃশ্যে আমার নয়ন বেসামাল, বড় ক্লান্ত আজ। অত সুন্দর অধর বিদ্রƒপে তাচ্ছিল্যে হয়েছে বঙ্কিম ভ্রুর কাজগুলো ঠিক যেন আনন্দের নয়, সবখানে এই চিত্র দেশে কি বিদেশে।   এ-আঙুল নিজের মুখের দিকে নিতে তো…

  • বারান্দা

    বারান্দা

    জানালাটা বন্ধই থাকত। গাড়ি-ঘোড়ার আওয়াজ, ধোঁয়া, ধুলো, হাড়বজ্জাত মাতালের মাতলামি কোনোটিকেই কারণ হিসেবে দায়ী করা যাবে না। তথাকথিত ফ্ল্যাট-বাড়ির জানালাও এটি নয় যে, অন্ধের কি-ই-বা দিন কি-ই-বা রাত! শুধু ছিটকিনি খোলার অপেক্ষা। হুড়মুড়িয়ে রোদ আর বাতাস। আহা কী দিনই না ছিল! শুধু কি জানালা! দরজা খুললেই চওড়া বারান্দা। শীতের সকালে আরামকেদারা আর খবরের কাগজ। পিতৃপুরুষের…

  • অদরকারি

    অদরকারি

    বাস্তব জগতে যখন কিছু ঘটে, তখন তা ঘটতে যা যা লাগে তার সবকিছু নিয়েই সে ঘটে – যেমন আসমান থেকে জমিনে বৃষ্টি পড়তে পানি লাগে, আসমান লাগে আর জমিন লাগে। তিনটে জিনিসের উপস্থিতিতেই কেবল ‘গগনে গরজে মেঘ ঘন বরষা’ হয়। মুশকিল হচ্ছে, যা লাগে না তা-ও থাকে, যেমন সুলতাদের ঘিনঘিনে কানাচে একটি আত্মজ্বালা মানকচু গাছ…

  • তমোহর

    তমোহর

    অফিসের পোশাক পরে মেয়ের হাত ধরে বেরিয়ে যাওয়ার আগে তমোহরের রুমে উঁকি দিলো সেঁজুতি। বিছানায় পা ছড়িয়ে বসে, নতুন কেনা গিবসনের গিটারটার টিউনিং করছিল সে। ওদের উপস্থিতিতেও সে-কর্মের কোনো ছেদ ঘটে না। সে আপনমনে টিউনিং করতে থাকে। সেঁজুতি জানত, ও এক পলকের জন্যও চোখ মেলে তাকাবে না। তাই বেশ উঁচু কণ্ঠে বলে, ‘আমরা যাচ্ছি।’ তমোহর…

  • বোবা রাজহাঁস

    বোবা রাজহাঁস

    ‘ইলিশ নিবেন গো মা – ইলিশ মাছ – পদ্মার ইলিশ – ’ মাছওয়ালা পাড়ায় হেঁকে বেড়াচ্ছে অনেকক্ষণ থেকে। বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁকে গেল কয়েকবার।  কার্তিকবাবু রাস্তার দিকের ঝুলবারান্দায়। বর্ষার ভিজে বাতাসে ইলিশের আমন্ত্রণ! তৃতীয়বার লোকটা আসতেই – চাকরির প্রবাস থেকে বউ গোলাপবালার কাছে ফেরার মতো অমোঘ আকর্ষণে মাছের ব্যাগ নিয়ে নিঃশব্দে পথে নেমে এসেছেন কার্তিকবাবু।…

  • আফসার আমেদ : অনেক কথা বলা হলো না

    আফসার আমেদ : অনেক কথা বলা হলো না

    ‘কবি ও লেখকরা তো সৌন্দর্যতত্ত্বের কাজ করেন, তাঁর স্বাধীনতা তিনি চান। তাঁরা সাধারণত মানুষকে মানুষ দেখতে ভালোবাসেন। সমাজ, রাষ্ট্রযন্ত্র হয়তো তাঁকে স্বাধীনতা দিতে পারে না। তখন লেখক-সাহিত্যিকরা জীবনদর্শন তৈরি করে নেন। সেই কাজে আপামর মানুষের হয়ে কথা বলবার জন্য সব শিল্পমাধ্যমে তাঁর প্রতিফলন ঘটিয়ে থাকেন। সাহিত্যশিল্পের কাজ সমাজজীবনে অন্তঃসলিলা স্রোতের মতো তাঁর সৃষ্টিকে প্রবাহিত করা।…

  • রমাপদ চৌধুরীর প্রয়াণ

    রমাপদ চৌধুরীর প্রয়াণ

    গত ৩০ জুলাই কথাশিল্পী রমাপদ চৌধুরী ৯৬ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। ১৯২২-এ তাঁর জন্ম। গত শতকের চল্লিশের দশকে যে-লেখকরা লিখতে এসেছিলেন বাংলা সাহিত্যে, তাঁদের শেষ প্রতিনিধি ছিলেন রমাপদবাবু। দীর্ঘদিন লেখা বন্ধ করে দিয়েছিলেন; এবং তা ঘোষণা করেই। সেও বছর বিশ-পঁচিশ হবে। রমাপদবাবু লিখতেন কম। আমি যখন তাঁকে দেখেছি, সেই ১৯৮৩-৮৪ সাল, বছর পঁয়ত্রিশ আগে, তখনই…