
October 2017
এই সংখ্যার লেখা
-
একজন হাবীবুল্লাহ সিরাজী
হাবীবুল্লাহ সিরাজী কে শুয়ে আছে পদ্মপাতায়? কে ভাসে কচ্ছপের নাকে? কে নেয় ঘুমন্ত ডিমের মধ্যে আশ্বিনের চাঁদের হিসেব? বড়ো ভয় ছিল যদি মেঘ খোঁজ পায় ব্যাঙের ছাতার মতো সন্ধ্যাতারাটি তবে তাকে পুঁতে দেবে অন্ধ গোশালায়। ম’রে গেলে বোঝা যাবে তাকে। জল স’রে গেলে ধরা দায় এইখানে জলাশয় ছিল, আগুন নিভে গেলে…
-

এখনো রহিল আঁধার
চন্দন আনোয়ার আমার এক পা, নইলে জারজ দুইটারে ঠিকই ধরে ফেলতাম… কেবল একবারই বজ্রগর্জনের মতো হঠাৎ গর্জে ওঠে রিটায়ার্ড হিসাবরক্ষক এরফান আলী। এখন চরম শান্ত! আঘাত খাওয়া নির্বিষ অসহায় প্রাণীর মতো মাথা ফেলে দিয়ে অথবা নিচের দিকে ঝুঁকে মিজানের রকমারি টি-স্টলের এক পা ভাঙা পঙ্গু বেঞ্চিটার ওপরে বসে আছে। বিদ্যুৎ ঝলকের মতো একঝলক জ্বলেই নিভে…
-

তেলাপোকা
ইকবাল হাসান তেলাপোকায় ঘর ভরে গেছে। টের পাচ্ছো? না পাচ্ছো না? কোথায় তেলাপোকা? আমি তো দেখছি না। তুমি কীভাবে দেখবে? তুমি তো অন্ধ। ইউ আর সিম্পলি বস্নাইন্ড। বাড়ি আছে বলেই তেলাপোকা, যাদের বাড়ি নাই তাদের তেলাপোকাও নাই। মনে মনে বলি। আমি এখন তেলাপোকা নিয়ে তেমন চিন্তিত নই, তবে ইউ আর সিম্পলি বস্নাইন্ড, কথাটা অ্যারিজোনা, টেক্সাসের…
-

দরজা
দেবেশ রায় যে-কোনো ফোন বাজলেই প্রথমে চমকে উঠতে হয়। ঠিক চমকও নয় যেন। গলা বা বুকের দিকটায় একবারই ঢিপ করে ওঠে। করে কী করে না। বাড়িতে ফোনের সংখ্যা তো গুনে শেষ করা যাবে না। বি-এস-এন-এলের সেই সাবেকি ফোন দুটো। টাটার একটা ওয়াকি। ডাক্তারবাবুর একটা মোবাইল – বাড়ির জন্য। ডাক্তারবাবুর সঙ্গে থাকে তিনটি মোবাইল। অন্বিতার নিজের…
-

জীবনানন্দের কবিতা-পাঠের ভূমিকা
বিশ্বজিৎ ঘোষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর, বাংলা সাহিত্যে, জীবনানন্দ দাশ (১৮৯৯-১৯৫৪) প্রকৃত অর্থেই অন্যতম শ্রেষ্ঠ মৌলিক কবি। বিষয়ভাবনা ও নির্মাণকলার দৃষ্টিকোণে তিনি বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র ধারার স্রষ্টা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে পৃথিবীব্যাপ্ত সামাজিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মূলবোধ-বিচ্যুতি, মানবিক-সম্ভাবনায় অবিশ্বাস এবং ‘পোড়োজমি’তে ‘ফাঁপা মানুষের’ বিপন্ন অস্তিত্বের প্রতিবেশে বাংলা সাহিত্যে জীবনানন্দের দীপ্র আবির্ভাব। যুগধর্মের বৈনাশিকতায় তাঁর মানসপ্রান্তর…
-

জীবনানন্দ দাশের কবিতালোক
ফয়জুল লতিফ চৌধুরী তাঁর জনপ্রিয়তা যেন তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল : তিনি যে আমাদের, বিশেষভাবে আমাদেরই, এ-সত্যটি তিনি লোকান্তরিত হওয়ার পরই যেন অনবগুণ্ঠিত হতে শুরু করল। জীবৎকালে যিনি ছিলেন প্রায় অজ্ঞাত, আজ তিনি সর্বহৃদয়সম্বাদী। বস্ত্তত তিনি আজ কেবল জনপ্রিয় নন, ১৯৫৪-এ মৃত্যুর অর্ধশতাধিক কালের মধ্যে জীবনানন্দ আজ বাংলা কবিতার অন্যতম প্রধান পুরুষে পরিণত হয়েছেন।…
-

নৈশভোজে রক্তপাত ও ব্যক্তিগত অনুষঙ্গের সৈয়দ হক
ফারুক আলমগীর একজন সৈয়দ শামসুল হক কী অসাধারণ হয়ে ক্রমশ সব্যসাচীতে উপনীত হলেন তাঁর অভিনব ভাষাশৈলী, কি কবিতায়, কি উপন্যাসে, কি গল্পে, কি কাব্যনাট্যে পলস্নবিত হয়ে আমাদের সাহিত্যভা-ারকে যেন এক কুহকী জগতে উত্তরণ ঘটালেন, যেখানে একজন সাধারণ মনুষ্য-পাঠক, একজন গবেষক আজীবন মোহাচ্ছন্ন হয়ে স্বপ্নের মণি-মুক্তা অন্বেষণ করবেন। দৈবের বশে তিনি কবিতা লেখেন না, স্বভাব-কবিত্বে তিনি…
-

দ্বিজেন শর্মা : কবি ও বিজ্ঞানী
মশিউল আলম এক পাথারিয়া পাহাড়ের কোলে বিস্ময়ের কুয়াশায় জেগে উঠেছিল এক খোকা, যখন নিকড়ি নদীটি খুব চঞ্চল ছিল। সে-খোকার মুখদর্শন করতে এসে বুড়োবুড়িরা উপহার দিয়েছিল রুমাল : লাল নীল সবুজ হলুদ বেগুনি কমলা – বিচিত্র সব রং। স্বপ্নের মতো রঙিন সেইসব রুমাল সুতায় বেঁধে খোকার দোলনায় ঝুলিয়ে রেখেছিল তার সবচেয়ে বড় দিদি। খোকা একটু বড়…
-

দ্বিজেন শর্মা : শ্যামলী নিসর্গের মহান সাধক
মোকারম হোসেন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে জীবনকে কীভাবে অর্থবহ করতে হয়, কীভাবে একটি স্বতন্ত্র ধারা তৈরি করে সমকালীন সমাজব্যবস্থাকে বদলে দিতে হয়, এমন বিরল দৃষ্টান্তই আমাদের সামনে রেখে গেলেন বৃক্ষাচার্য দ্বিজেন শর্মা। অসংখ্য বিশেষণে বিভূষিত এই মহীরুহসম সরল মানুষটি কখনো বুঝতেই পারেননি নিজের অলক্ষ্যে কতটা বিপ্লব ঘটিয়েছেন তিনি। তিনি আমাদের প্রকৃতিচর্চার মহান সাধক,…
-

দ্বিজেন শর্মা : এক অবিনশ্বর প্রাণ
সামসুল ওয়ারেস দ্বিজেন শর্মার চিন্তা, কর্ম ও জীবনযাপনে দুটি ধারা লক্ষণীয়। একটি ধারায় আছে বৈজ্ঞানিক যুক্তিবাদ, মানুষ ও সমাজচিন্তা এবং মার্কসীয় সমাজতন্ত্র। অন্য ধারাটিতে আছে আবেগ, নিসর্গ প্রেম ও শিশুসুলভ আত্মজিজ্ঞাসা। এ দুটি ধারার সম্পর্ক, ব্যবধান ও ভারসাম্য রক্ষাই যেন ছিল তাঁর সারাজীবনের পথ ও পাথেয়। বিজ্ঞান, সমাজ ও রাজনীতি ব্যাখ্যায় তিনি যতটা বিজ্ঞানমনস্ক ও…


