
October 2017
এই সংখ্যার লেখা
-

নির্জন দ্বীপের দিগন্তে আগুনপাহাড়
নেকলাইনে প্রকৃতির বন্দনা হয়ে জড়িয়ে আছে সারসের শুভ্র পালকের মতো রাশি রাশি মেঘ
-

অস্তিত্বের আখ্যান
জাহিদ মুস্তাফা শিল্পীর চোখ থাকে সুদূরে। তিনি সামনে তাকান, পেছনেও থাকে তাঁর দৃষ্টি। এ-দৃষ্টি অন্তর্ভেদী, চোখ যেন চলে যায় মাটি খুঁড়ে প্রত্নের ভেতরে। তিনি খোঁজেন সমৃদ্ধ অতীত, কালের সাক্ষীসাবুদ। আপন অস্তিত্বকেই যেন খুঁজে পান পুরনোয়। তার সঙ্গে চলমান জীবনের তুলনামূলক বৈপরীত্যে শিল্পীমন নিজের সৃজনের একটা জায়গা আবিষ্কার করে নেন। প্রবহমান নদীর মতো মানুষের জীবন –…
-

অবিস্মরণীয় লঘুতা : ফ্রঁসোয়াজ সাগঁ
আনা ইসলাম তেষট্টি বছর আগে প্রকাশিত হয়েছিল একটি গ্রন্থ, যা বদলে দিয়েছিল এক তরুণীর জীবন। নাম ফ্রাঁসোয়াজ সাগঁ, বয়স আঠারো। ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত বোঁজর থ্রিসতেস (Bonjour Tristesse), বাংলায় ‘শুভদিন দুঃখ’। প্রথম লেখা উপন্যাসের অভাবনীয় সফলতা দিয়ে সাহিত্যজগতে প্রবেশ তাঁর। কবি পল এলুয়ারের কবিতা থেকে শিরোনামটি নেওয়া। উপন্যাসে এক স্কুলপড়ুয়া টিনএজ মেয়ের গ্রীষ্মকালীন রোমান্সের গল্প, যা…
-
অন্ধকার থেকে লেখা…
শৌনক দত্ত মনে হয় নিশ্চয়ই একদিন নিরুপায় শব্দরা ব্যাকুলতায় অনুবাদ করে নেবে রুপালি মস্নান যুদ্ধশেষে ঘরে ফেরা চোখের মতো সোনালি সকাল ফিরবে মনে হয় একদিন চিন্তিত সিগারেট খসে পড়বে ভাবনাহীন প্রত্যয়ে সেইদিন সে দিন নিসর্গের ঘ্রাণ বুকে তুমি এসো প্রাকৃতিক সব হৃদয়ে বৃষ্টির মতো প্রিয়…
-
ওহে, তোমরা
রফিক উল ইসলাম কারবালার প্রান্তর থেকে যে-বাতাস ছুটে আসে লোকালয়ের দিকে, তার অন্তরে পিপাসার আত্মা লেগে থাকে। সেই পিপাসায় আমি তো সামান্য বারি, আমাকে খুন করতে পারো, এমন ছুরি তোমাদের হাতে নেই! আমাকে শুষে নিতে পারো এমন আলিঙ্গনও নেই তোমাদের! ওহে, তোমরা, পুরো আকাশ তোমাদের চোখে বসিয়ে নেওয়ার আগে, আমার জন্যেও দু-এক ফালি…
-
ভাবুক
সরকার মাসুদ ব্রিজের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে লোকটা; তার চোখ কালোসবুজ তুলির মোটা রেখায় আঁকা ঘন গ্রামের দিকে লোকটা শেষ বিকেলের বাতাস খাচ্ছে তার আঙুল পুড়ছে বেগুনি আগুনে! সে-সময় দিগন্তের পাখি উড়ে চলে যেদিকে সূর্যাস্ত! রেলিং থেকে নিচে ঝুঁকে তাকালে পানির যৌবন শব্দ করে চলে যায়! ব্রিজ পেরিয়ে যাবার সময় লোকজন তাকে দ্যাখে…
-
আমি কার কাছে
রহিমা আখতার কল্পনা আমি কার কাছে আগুন শিখতে যাবো! আমার আগুনে ঝাঁপ দিয়ে খোলা চোখে পুড়ে পুড়ে নিভে গেছে লেলিহান অনেক দোজখ। আমি কার কাছে শিখি বলো অনন্ত শূন্যতা! অনিত্য আমিই নৈরামণি চলিষ্ণু চর্যায় আমার শূন্যতা থেকে জন্ম ঘটে অযুত প্রাণের। কার কাছ থেকে আমি পাঠ নেবো ঘাট-আঘাটার! আমিই তো পদপিষ্ট মায়াকাড়াঘাট-…
-
হাটসভা
সুজন হাজারী হাঁটু গেড়ে বসেছি জয়েসের হাটসভায় নিমগ্ন পাঠ শেষে গল্পের প্লট খুঁজি তাঁতঘরে মাকু টানি শিল্পকারখানায় স্টিফেন ডিডেলাস তুলিতে আঁকে একজন ফরাসি নতজানু প্রার্থনায় ঈশ্বর নেমে আসে পাশে শ্রমিকেরা প্রিয় স্বদেশ ছেড়ে পাড়ি দেয় অজানা অভিবাসে পাপের দরজা পেরিয়ে গির্জা ত্যাগ করে মহান যিশু অনুশোচনায় বেথেলহামে পুনঃপ্রবেশ করে মাতা মরিয়ম সৃষ্টির যাতনায় সূর্যের আগুনে…
-
সময়-চিহ্ন
আলোময় বিশ্বাস ১ সভ্য মানচিত্রের ছায়ায় এক অভিনব পাঠশালা, পাঠদান চলে ছেলেমেয়ে উল্লাসে সেই পীঠে সমবেত হয়। শিক্ষকেরা গেরুয়া ভিক্কুর মতো শান্ত সমাহিত বোধি, দুর্বোধ উচ্চারণে যা কিছু ঢালে জাদুবিদ্যা উঠে আসে তাতে, নিশ্বাসে জ্ঞান প্রশ্বাসে হিতোপদেশ এই যে পৃথিবী আর তাবৎ ব্রহ্মা- ওরা শুধু ঘুরে ঘূর্ণনই অনাদি সুখলতা ইতিহাস এইসব শুনে শুনে, বিদ্যার ঝাঁকি…
-
ছায়ালোক-৩৫
সৌভিক রেজা কিছু হওয়া না-হওয়ার কথা ভাবি। সবকিছুতেই একটা দায়সারাভাব লেগে থাকে, যেন অন্ধকারে অচেনা মলিন কোনো বারান্দা। মাঝে মাঝে যারা ফোন করেন, তাদের সঙ্গে কথা বলতেও ক্যামন যেন ক্লান্তি। অচেনা কোনো গলিতে, কোনো অচেনা নদীর মাঝখানে, ভাঙা লাল রাস্তায় নিয়ে যেতে পারে যারা তারা এখন কোথায়, কোথায় তাদের আবাস-নিবাস? যার কাছে যাই সে-ই…
-
সাদাই তো ছিল
মাহমুদ কামাল সাদাই তো ছিল রঙের প্রলেপ দিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির যে তুলির আঁচড়ে প্রস্ফুটিত হলো প্রকৃতপক্ষে তা কালিমা লেপন। এরকম চিত্রগুলো বিচিত্র হয়ে হেসে ওঠে যেন ক্রূর হাসি… সাদাই তো ভালো ছিল ভুল ব্যবহারে রঙেরও অর্থ বদলে যায় লাল-নীল-সাদা-কালো বদলে যেতে যেতে অবশেষে পড়ে থাকে ‘ছেঁড়া টুকরো মেঘ…’
