এই সংখ্যার লেখা

  • ফোলডিং চেয়ার

    নাসরীন নঈম   ফোলডিং চেয়ার ঘরে রেখে কী হবে এখন? জীবন তো আর ঘরে বসে থাকে না জীবন বেড়ায় উড়ে উড়ে এখানে-ওখানে নদীর তীরে ঘাসের ওপর রোদ পোহানো কুমিরের পিঠের ওপর জীবন বসে থাকে কোনো কাজে লাগবে তোমার ফোলডিং চেয়ার সারারাত নির্ঘুম চোখ অতীত দেখে বর্তমান ভুলে যায় সমুদ্র পাহাড় আর সমতলভূমিতে ঘন ঘন মৃত্যুসংবাদ…

  • শব্দগ্রহণ

    মিজানুর রহমান বেলাল   চাঁদের চাদরে লেগে থাকা মগ্নতা – মনের দামে কেনা।   ভেবে দেখো – এখানেই লেগে আছে সুগন্ধি ছোটবেলা কী করে বেচব বলো – দাদিমার চিকন শব্দের গল্পগাথা!   দুধমাখা ভাত আর মায়ের মুখের ডাক – আহা কী মধুর রত্নের দামে যাবে না কেনা; ভারি হয় চোখের পাতা।   বাবার রেখে যাওয়া…

  • আজ রাতে কেউ বেঁচে আছে কি না

    ইকবাল আজিজ ভেজা চোখে জেগে থাকে রাতের আকাশ – আজ রাতে জানি না কেউ বেঁচে আছে কি না। শীতের গভীর কুয়াশায় অন্ধকারের আত্মা গান গায় – কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে থেমে আছে ট্রেন মাঝরাতে। জানি না এ-রাতে রাবেয়া কি গান গায় গুনগুন করে? আর রফিক কি গোপন-বিপস্নবী দলে? আকাশের প্রান্তরেখা ঘিরে ধবধবে আকাশের সারি – মিশে…

  • মূল্যবোধ

    শেলী সেনগুপ্তা   ভিজে যাচ্ছে অকালের বৃষ্টিতে জমানো স্মৃতি, লুকানো ভালোবাসা, একান্নবর্তী ঘরগৃহস্থি, মাঝরাতের শীৎকার, জানালায় ঝুলে থাকা বিষণ্ণ বিকেল, লাল পেড়ে গরদ শাড়ি, জলে ভিজে জবজব!   কী আশ্চর্য! নুয়ে পড়া কলাপাতাটার নিচে দিব্যি দাঁড়িয়ে আছি দুর্ভেদ্য বৃষ্টির প্রাচীরঘেরা আমরা – কেউ দেখছে না, না বৃষ্টি, না দুর্মুখ প্রতিবেশী!   বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ভূখ–র…

  • বিস্তীর্ণ এলিজি

    হাফিজ রশিদ খান   উপনিবেশকালের ছুরিটা এখনো আছে ঝকঝকে পুবের জানলা দিয়ে আলো এলো বলে ভোরের সুবাদে ঝকঝকে ওটাকে হাতে তুলি   ডাঁসা-ডাঁসা পেয়ারাগুলো টুকরো-টুকরো বালক-বালিকাদের মুখে গুঁড়ো হতে থাকে বয়েসিরা হাতের থেকে হাতে-হাতে অদল-বদল করে ছুরিটার মধ্যে খুঁজে ফেরে একটা গভীর স্টেনলেস স্টিলের সিলমোহর : কুইন ভিক্টোরিয়া কিংবা পিআইএ পারাবত   আমি হাতের দারুণ…

  • সাপ

    আলোক সরকার   সবকটা অন্ধকার সাজিয়ে যাকে ভালোবেসেছি তার দিকে অভিশাপ আজো বিবাস হলো না।   অবিরাম দীনতা, অযোগ্যতা, দীনাতিদীন মৃত্যুপ্রহর।   তাজা পুষ্পচয়ন তাকেও রুগ্ণ ছেঁড়াখোঁড়া করা।   মাটি থেকে শিশিরসিঞ্চিত দূর্বাদল মন্ত্রপূত করে অঞ্জলি রচনা করা। পদতল কোথায়! দেখি ভীত সাপ কলবল করে পালাচ্ছে।

  • আকাশপ্রদীপ

    কালীকৃষ্ণ গুহ   অন্ধের সাহস নিয়ে রাস্তায় বেরোই। হিম পড়ে। অনিঃশেষ হেমন্তকাল। কতকালের আকাশ মাথায় নিয়ে প্রতিদিনের ভ্রমণ!   শূন্যতার ওপারে ঈশ্বর আছেন ভাবতে পারলে আনন্দ হতো। কিন্তু তা হবার নয়। আনন্দের উৎসগুলি খুঁজতে হবে গাছপালার মধ্যে পশুপাখির মধ্যে পোকামাকড়ের মধ্যে সমুদ্র আর অরণ্যপর্বতের নৈঃশব্দ্যের বিস্তারের মধ্যে আশায় বুক বেঁধে উঠে দাঁড়ানো মানুষের মধ্যে।  …

  • কতদূর? আর কতদূর?

    কতদূর? আর কতদূর?

    ঐশী আলমারি খুলল। বিয়ের নীল বেনারসিটার দিকে চোখ গেল। না। বিয়ের কোনো স্মৃতিই সঙ্গে নিয়ে লাভ নেই। ২৩ বছরের খুঁটিনাটি স্মৃতি যদি বইবেই তবে আর মুক্তি কিসে? অবশ্য – ঐশী নিজেই জানে না মুক্তি কাকে বলে। এই ২৩ বছরের মধ্যে আঠারো বছর ধরেই এই দিনটার অপেক্ষায় থেকেছে ঐশী। মুন্নির তখন পাঁচ বছর। তখন থেকেই ঐশী…

  • মমতাজ মহল

    মমতাজ মহল

    মহুয়ার সঙ্গে আমার দাম্পত্য কলহের অন্তত আশি ভাগ জুড়ে রয়েছে মমতাজ মহল। এক বা দুদিনের কলহের আশি ভাগ নয়। একত্রিশ বছর ধরে যত কলহ হয়েছে তার আশি ভাগ। ঝগড়াটা যেভাবেই শুরু হোক, এর উপসংহারে মমতাজ মহল থাকতেই হবে। আমাদের বিয়ের দ্বিতীয় বছরের শুরুতে এক রাতে খাওয়ার সময় হেঁচকি ওঠে। মহুয়া হেঁচকিটাকে খুব সিরিয়াসলি নেয়। আমি…

  • সাঁঝে-সকালের ঝিঙা ফুল

    সাঁঝে-সকালের ঝিঙা ফুল

    বাইরের উঠোনে সাইকেলের প্যাডেলে পা রেখে হরিহর হাঁক দিলো, ‘এসো!’ ঘরের ভেতর ভ্যানিটি ব্যাগে এটা-ওটা, মায় নিজের মোবাইল ফোনটা গুছিয়ে নিতে নিতে অণিতা উত্তর করল, ‘হ্যাঁ, যাই।’   সকালবেলা। ঝলমলে রোদ উঠেছে। বাঁশঝাড়ে নিম-চল্লার গাছে কাক-কুইরি যেমন ডাকে, ডাকছে। বেগুনঝাড়ের বেড়ায় লতিয়ে-ওঠা কাবাগুড়ি ফল পেকে এখন টকটকে লাল! হরিহর সাইকেলের বেলটায় আলতো চাপ দিয়ে ‘ট্রি-নি-টি’…

  • কানাই

    কানাই

    শ্রীকৃষ্ণের নামে নাম রেখেছিলেন ঠাকুরমা – কানাইলাল বিশ্বাস। হাটে-মাঠে মানুষ অবশ্য ওকে শুধু কানাই বলেই চিনত। তবে কেন জানি এলাকায় তেমন একটা সুনাম ছিল না কানাইয়ের। জন্মের পরপরই মা মারা গিয়েছিল কানাইয়ের। আর বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই কলেরায় ভুগে দুদিনের ব্যবধানে মারা যায় বাবা রসিকলাল বিশ্বাস ও দিদি মালতী। সেই থেকে কানাই একা। মানুষ বৃদ্ধ ঠাকুরমার…

  • ছায়াবাজি

    ছায়াবাজি

    বলা নেই কওয়া নেই দুম করে অনন্তপ্রসাদ মরে গেল। ভোরবেলায় একে নিয়ে হাওয়া খেতে বেরোয় শিবু। খোলা হাওয়া পেলে বেশ তাগড়া দেখতে অনন্তপ্রসাদ দুরন্ত ঘোড়ার মতো ছুটে চলতে চায়। পিছু ধাওয়া করতে গিয়ে শিবু ক্লান্ত হয়ে পড়ে। হাঁপ ধরে যায় রীতিমতো; তবু কোনোদিন নিয়মের ব্যত্যয় হয় না ওর। যদিও এর বাহারি নাম অনন্তপ্রসাদ, আদতে এটি…