
February 2019
এই সংখ্যার লেখা
-

শব্দযান
ফড়িং-ঘাসফড়িংয়েরা মরে যাওয়ার পর একটু একটু করে শুকোতে শুকোতে, শেষ পর্যন্ত শুকিয়ে চিমসে, শুকনো খড় যেন, এমন চেহারা পেতে পেতে হয়ে যায় বিচালির টুকরো। বাঙালরা – দেশভাগের সময়, আগে-পরে পূর্ববঙ্গ থেকে খ্যাদা খেয়ে এপারে – পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরায় চলে আসা মানুষেরা, যাঁরা – সেইসব পূর্ববঙ্গীয় মানুষদের বেশিরভাগই তো হিন্দু নয়তো বৌদ্ধ – খুব সামান্য হলেও…
-

ঢাকায় শৈশবের একুশ : প্রথম প্রভাতফেরি
ফারুক আলমগীর এক ভারত বিভাগের পরে কলকাতা থেকে ঢাকা এলে বাবা আমাদের বসত গড়েন গোপীবাগ এলাকায়। আমরা দু-ভাই তখন খুবই ছোট, স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি। কিন্তু ’৫০ সালে পিতামহের লোকান্তরগমনে শোকাহত পিতা ঢাকার নিবাস উঠিয়ে আমাদের চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামে পাঠিয়ে দেন। বাহান্নতে ঢাকায় আবারো ফিরে আসি। মা এবং আমার তখন অনেকটা ভগ্ন-হৃদয়, কেননা সেবার দেশে…
-
চরাচরের ঘর
টোকন ঠাকুর এভাবে কবিতা হয় না, লেখাপড়া শিখে নিরক্ষর ভাঁটফুলও জানে তাকালেই দিগন্ত দেখা যায় না দিগমেত্মর দিকে যেতে হয় ফুল ফুটবে বনে, ঘ্রাণ তো ছাপাই হবে না পাঠ্যবইয়ের বাইরে যাদের পাঠ্যবই বেশি তারাই উৎসাহিত হবে বা উৎকর্ণ হবে : সদ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের ভেতর থেকে উড়ন্ত শালিখের ডাক শোনা যায় কিনা! …
-
ঢুলি কমল : ফাঁসিমঞ্চে
ওবায়েদ আকাশ ঢুলি কমলের চোখগুলো ঠিক যুগযুগামেত্মর বিস্ফারিত ভাষা মেসোপটেমীয়, কারাল কিংবা মায়া সভ্যতার উদ্ভাবিত আলোয় তার ঢোলের ব্যঞ্জনা মহাকালিক সংগীত রচনা করে যে-কোনো হ্রস্ব কিংবা ভীরু মানুষের বুকে একবার আন্দোলিত হলে ভোরের মর্মর নাকি অন্ধকারে মহাপ্রলয়ের তূর্য রচিত হয় – এ-কথা জানে না কমল কোলাহল থেমে গেলে সে যখন নিতান্ত…
-
পড়ে থাকে অহংকার
শিহাব শাহরিয়ার যে-অভিমানে ইটভাটার ধুঁয়ারা উড়ে গেছে; আমিও একই অভিমানে উড়ছি কারোর কারোর মনোঘরে। কচি বাঁশের মতো দুলছি তাহাদের হাতের বাতাসে। পশ্চিমের মেঘগুলো কালো করে আমাদের অদৃশ্য উঠোনে নেমে এলে; আমি বকের লম্বা ঠোঁট থেকে সরিয়ে নিই পুঁটিদের গায়ের লালপেড়ে শাড়ি আর চেয়ে চেয়ে দেখি তোমার শাড়ির পাড়জুড়ে বসেছে বৈশাখি মেলা। মেলা, পুঁটি আর নদীজল…
-
বহ্নি বালিকা
দেবাশিস লাহা তোমাকে কতটা চিনি বহ্নি বালিকে? মধ্যাহ্নের যূথবদ্ধ রোদে অন্ধকার অশ্বারোহী আমি, যতটা নৈর্ব্যক্তিক হলে অবিন্যস্ত পথ ধুলোর প্রলাপ থেকেও প্রার্থিত সনেট খুঁজে নেয়, অথবা অনলভ্রমে পতঙ্গের লাফ যতটা আন্তরিক হলে নিটোল লিরিক, ততটা নির্নিমেষ কী আমি হতে পারি? তোমাকে কতটা জানি বহ্নি বালিকে? যতটা তোমাকে চেনে চিবুকের তিল, অথবা নদীর স্রোতে লুকানো…
-
কবি
দিলারা হাফিজ আমি কবি যখন আমিও থাকবো না সকরুণ এ-বাংলায় বিজয়ের তারাবাতি তখনো জ্বলবে এই আকাশ পাড়ায়; শিশুদের অফুরান হাসিতে ঝরবে পতাকার তীব্র লাল সবুজ দ্বীপের মতো আশা জাগানিয়া সতত ষোলই ডিসেম্বর বুকের গভীরে খুব বাজাবে খঞ্জনা, আমার শৈশবে ভর করে নেচে যাবে ভবিষ্যৎ সূত্রধর অহম বালক; আমি কবি যখন আমিও থাকবো না…
-
শুকনো পাতার ছবি-২৮
সৌভিক রেজা তার কাছে কিছু ঋণ রয়ে গ্যালো; যেখানে নদী সেখানেই কুয়াশা; যেখানে ভিড় সেখানেই মলিন আচ্ছাদন; কোনো-একজন খলিফা এসে ঢেকে দেন রাতের আকাশ; আমাদের ঋণগুলো তারায়-তারায় ভেসে যায়। মেঘ হয়ে ওঠে কোমল গান; তার সমাপ্তির রেশ আর শেষ হয় না; তাকিয়ে থাকি পূর্বাচলের দিকে; কান্নাহাসির লুকোনো কথা কেউ যদি জানে তো জানুক
-
কবিতার ক্লান্তি নেই
ফারুক মাহমুদ সুবিধার রজ্জু ধরে আমাদের আছে শুধু আত্মকেন্দ্রে থাকা পরিধির ভিন্ন পাশে, বৃত্তের সামান্য শেষে থাকতে পারে কিছু – এসব তো জ্ঞানধর্মে নেই। উলটো পথে থাকে প্রতাপের সুখ পুরস্কার লাগবে কিছু! স্থূল, মৌন হোক-না তা গস্নানিগন্ধ মাখা তুমুল সঞ্চয় হবে। বাড়ুক ব্যাংকের স্ফীতি, একাধিক হবে ডেভিট-ক্রেডিট কার্ড। বিষয়-বাসনা হবে পাহাড়সমান চারপাশে চাটুভাষা,…
-
হাঁসকল ২৫
সুহিতা সুলতানা মনের ভেতরে বেজে ওঠে গিটারের কান্না, কমলা বাগানের পাশ ঘেঁষে যখন লোরকাকে ওরা নিয়ে যাচ্ছিল সেদিনও সন্দেহ জেগে উঠেছিল স্পেনের দরোজা-জানালা নিদ্রিত নগরীর রাস্তাজুড়ে। আজো মানুষের মনের ভেতরে সন্দেহ খেলা করে! জলপাই বন তছনছ করে যে কহর ছেড়ে শহরের দিকে মুখ করে শুয়েছিল জীবন অনিশ্চিত জেনেও; তার বাসনা ছিল কেবল একজন স্বাস্থ্যবতী…


