এই সংখ্যার লেখা

  • জবানবন্দি

    প্রদীপ আচার্য   কোথায় যাই তা বড় কথা নয় যদি জন্নত ভুলে জাহান্নমেই যাই আমি সেখানেও তো আছি।   কী পাই তা বড় কথা নয় যদি কেউ অঞ্জলিতে আগুন ঢেলে দেয় আমি আগুনপানের শর্ত নিয়েই বাঁচি।   কী নিলাম তা বড় কথা নয় যদি কোনো পদ্মপুকুরে শালুক খুঁজে পাই আমি তুড়ি-আনন্দে নাচি।   কী দিলাম…

  • একটি নতুন আলাপ ও সমারোহণের বাস্তব

    জলধি হালদার কোনো কোনো মানুষ গাছের সঙ্গে কথা বলতে পারেন সেই সমারোহণের শিল্পদৃষ্টি সবুজ পত্রগুচ্ছের ওপর দিয়ে কালসিন্ধু পার করে দ্রাবিড় আসিরীয় মায়া কিংবা মিশরীয় উপলক্ষণে আবার ফিরে আসে এই নদীবাংলায়   তখন গোপন প্রদেশের তলানি ছিন্ন করে প্রকাশিত জীবনের বহুধাশিকড় অনীক অনীক আপনি কড়া পোশাকের সৈনিক আজ নতুন আলাপে বাজুক সূর্যের গিটার

  • প্রতিদিন জীবিত থাকি

    জলধি হালদার আমার জামার বোতামের দূরত্ব কখনো সমান থাকে না ফলে ভেতরের ঘামে-ভেজা স্যান্ডো আমার পইতে নেই এটা দেখা যায়   বুকের কাছে জামাটা টোপলার মতো ঝুলে থাকে সহজেই ঘূর্ণি এলোমেলো হাওয়া ঢোকে   গলার মাপটা কোনোদিন ঠিকঠাক নিতে পারেনি দর্জি খোলা গলায় মুখরভাবে প্রশংসা ও প্রতিবাদ বেরিয়ে আসে এবং প্রতিবাদের জন্য ভেঙে ফেলি আমার…

  • কবি সাযযাদ কাদির স্মরণে

    প্রিয় কবি প্রিয় সময়ের কামলা সাহেব সালাম জানবেন। পর সমাচার এই যে ইদানীং নতুন এক জোড়া জুতো কিনেছি কিন্তু কী আশ্চর্য পায়ে পরতে পারছি না যত্রতত্র ফোসকা কেটে উঠছে প্রতিবেশীরা বলাবলি করছে এই জুতো আমার পরিধানের যোগ্যতা নেই এ-বিষয়ে সংশিস্নষ্ট বিজ্ঞজনের সাথে আলাপ করেছি কেউ কেউ জুতো বদল করে নিতে বলছেন কেউ কেউ বলছেন আর্টিফিশিয়াল…

  • রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক এবং তার পরে

    রবীন্দ্র-নজরুল সম্পর্ক এবং তার পরে

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) মহৎ কবি, বাংলার কবিদের ভেতর তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ, বিশ্বসাহিত্যে গীতিকবিতার ক্ষেত্রে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তাঁর সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলামের (১৮৯৯-১৯৭৬) তুলনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না; তবে লক্ষ্য করবার ব্যাপার থাকে যে নজরুলও মহৎ এবং বাংলা কবিতার ইতিহাসে প্রতিভা ও অর্জনের দিক থেকে রবীন্দ্রনাথের পরেই তাঁর স্থান। প্রথম ও দ্বিতীয়র মধ্যে দূরত্ব অবশ্য দুর্লঙ্ঘ্য। কিন্তু…

  • ইতিহাসের নির্মাণ থেকে বিনির্মাণে ফণীশ্বরনাথ ‘রেণু’

    ইতিহাসের নির্মাণ থেকে বিনির্মাণে ফণীশ্বরনাথ ‘রেণু’

    পেস্নটো অনুকরণকে Eikastika ও Phanatastika – এই দুভাগে ভাগ করে সত্য অনুকরণকে নীতির দিক থেকে গ্রহণীয় বলে ঘোষণা করলেন। তিনি শিল্পকে ‘অনুকরণ’ বললেও শিল্পের প্রেরণা অবশ্যই খুঁজেছিলেন দৈব ইচ্ছা বা কৃপার মধ্যে। তাঁর মতে, কবিরা কাব্য রচনা করেন (in a state of divine insanity) দৈব-উন্মাদনায় বা দৈব-প্রেরণায়। মূর্খ কবিরাও যে সুন্দর সুন্দর কাব্য সৃষ্টি করেন…

  • ঠাকুরবাড়ির মহাতীর্থে  কবি জসীম উদ্দীন

    ঠাকুরবাড়ির মহাতীর্থে কবি জসীম উদ্দীন

    কবির আহবান : শিল্পীর আতিথ্য   – তুমি শান্তিনিকেতনে এসে থাকো। – আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম. এ. পড়ছি। – শান্তিনিকেতন থেকে প্রাইভেটে এম. এ. পরীক্ষা দিতে পারবে। – ভালো করে ভেবে আপনাকে জানাবো। এই কথোপকথনের সময় ছিল সম্ভবত ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দ। তখন কবির বয়স প্রায় ৭০ বছর। বৃদ্ধ কবির আন্তরিক আহবান এলেও ভরসা করতে পারেননি নবীন…

  • কলকাতার বাঙাল  বৃন্দাবন মল্লিক লেন

    কলকাতার বাঙাল বৃন্দাবন মল্লিক লেন

    কলকাতা শহরে এমন মানুষ আছে, যারা একসময়ে পূর্ববঙ্গবাসী বা কোনো পূর্ববঙ্গবাসীর উত্তরপুরুষ হলেও কলকাতায় এসেছে, এবং থেকেছে নানা কারণে – অনেক আগে থেকে আজ পর্যন্ত – কখনো পড়াশোনার জন্য, কখনো চাকরিবাকরির সন্ধানে, কিংবা পরবর্তীকালে দেশভাগে বিপর্যস্ত হয়ে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় তো দেশত্যাগের আরেক পালা। এরাই বস্ত্তত কলকাতার বাঙাল। কলকাতায় থাকলেও পূর্ববঙ্গের অনেক অভ্যাস ও স্বভাব…

  • দৃশ্যাবলি : অন্নদাশঙ্কর

    দৃশ্যাবলি : অন্নদাশঙ্কর

    জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ১৯৪৮ সালে পড়ার সময় ক্লাসে একটি ছেলে আসে, আমার সহপাঠী হয়, সেন্ট্রাল ব্যাংকের ম্যানেজারের ছেলে। তার জন্মদিনে আমাকে নেমন্তন্ন করে। সেদিন তার বোনের সঙ্গেও আলাপ হয়। ভাইবোনে মিলে আমার মাথা খারাপ করে দেয় ছেলেমেয়ের শরীর নিয়ে নানা কথা বলে। তারা আমার বয়ঃসন্ধির অভিশাপ। কোনোমতে নবম শ্রেণিতে উঠি। নবম শ্রেণিতে সহপাঠী…

  • ডানা

    ডানা

    ঝাঁট দিতে দিতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসতে থাকে রোশনারা। সিঁড়ির প্রতিটি ধাপের কোনায় জমে থাকা ধুলোবালি, ছেঁড়া কাগজের টুকরো, চকলেটের দোমড়ানো মোড়ক, পাউরুটির পোড়া চামড়া, ফুরিয়ে যাওয়া পেনসিলের গোড়া এমন করে জড়ো করতে থাকে দেখলে মনে হয় কাজটার মধ্যে কিছু একটা খুঁজে বেড়ায় মেয়েটা। কোথায় যেন বাড়তি একটা উৎসাহ ওকে এই কাজে নিবিড় করে,…

  • দাগ

    দাগ

    এই বিদেশ-বিভুঁইয়ে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল তাদের। পাঁচতারা হোটেলের দীর্ঘ ও প্রশস্ত করিডোর, একপাশে সারিবাঁধা রুম, অন্যপাশটা খোলা। করিডোর না বলে ব্যালকনি বলাই ভালো। সেখানে রেলিংয়ে দুই হাত রেখে দাঁড়িয়ে ছিল সে। দূরে তাকিয়ে ছিল, অনেক দূরে, কী ভাবছিল জানে না কেউই। এই করিডোর ধরেই সিঁড়িতে যেতে হয়, কিংবা লিফটে। শায়লাও যাচ্ছিল। ডিনারের সময় হয়ে…

  • চিল

    চিল

    শিউলি গাছের পানে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখদুটো হঠাৎই বড়োসড়ো এক লাফ মারলো আকাশে। বহুকাল বাদে আজ ঘটনাটা পুনরায় ঘটলো। তুলো-পেঁজা সাদা সাদা মেঘের বুটি দেওয়া ঝকঝকে নীল আকাশ। তিনটে চিল ডানা কাত করে ঘুরছিল। যেন চাঁদোয়ার তলায় বড় পোকারা ওড়ে। মাঝে মাঝেই নীল রঙের মধ্যে চোখ ধাঁধিয়ে হারিয়ে ফেলছিলাম ওদের দু-একটাকে। আবার খুঁজে পাচ্ছিলাম খানিকবাদে।…