এই সংখ্যার লেখা

  • স্মৃতিতে পার্থ

    মাহবুবা সিদ্দিকী  সদ্য পার্থে এসেছি। সকালবেলা আলফ্রেসকোর১ নিচে বসে চা পান করছি। সামনে চমৎকার সবুজ লন, যদিও চাপড়া চাপড়া ঘাসের গুচ্ছ লনটার সৌন্দর্যকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিয়েছে। এর মধ্যে ছোট ছোট হলুদ ফুল ফুটে আছে। আকাশ গভীর নীল। এমন নীল আকাশ দেখেছিলাম অনেকদিন আগে সেন্টমার্টিনে। একমাত্র খারাপ আবহাওয়া ছাড়া এখানে এমন নীল আকাশ সব সময়ই…

  • অপঠিত পার্লবাক, প্রার্থনা ও বাজি

    নুশেরা তাজরীন আজকাল গুলশানের কথা বড় বেশি মনে পড়ে সন্ধ্যারাণীর। একটু খুঁটিয়ে দেখলে ঠিক গুলশান না, তার ঘরের তাকে রাখা কালচে-সবুজ মলাটের বইটার কথাই মনে পড়ে, প্রথম পাতায় নিউজপ্রিন্টের চোষকাগজে ফাউন্টেন পেনের নীল কালিতে শিরা-উপশিরা বের করা – ‘গুলশানকে শুভেচ্ছার নিদর্শনস্বরূপ ক্ষুদ্র উপহার, ইতি কাজল’ – লেখাটাও তার চোখে ভাসে। বইটা সে পড়েনি, শুধু দেখেছিল;…

  • গোলাপ ও মোহনলাল

    আহমেদ মুনির মোহনলাল এই পাড়ায় থাকত। ১৭ বাই সি হলুদ চারতলা বিল্ডিংয়ের নিচতলায়। কিন্তু সে-ব্যাপারে নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারে না। এখন সোবহান সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে তিনি কপাল কুঁচকে পাল্টা প্রশ্ন করেন – ‘কোন মোহনলাল? পনেরো বছর ধরে এই বাড়িতে আমরাই থাকি। কই এমন নামে এখানে কেউ ছিল বলে শুনিনি তো।’ লিচুবাগানের গলিটা সরু…

  • নহ মাতা নহ কন্যা

    রফিকুর রশীদ কার্তিকের কুয়াশা এবার যেন আশ্বিনের গোড়াতেই ঘিরে ধরেছে চারিদিক। সন্ধ্যা ঘনিয়ে নামতে না নামতেই মিহি বরফকুচির মতো কুয়াশা পড়তে শুরু করে। সেই কুয়াশায় ভিজে ভিজে গ্রামের বউ-ঝিয়েরা আসে পূজামন্ডপে ঠাকুর দেখতে। প্রতিমা-দর্শনকে তারা বলে ঠাকুর দেখা। তাদের কৌতূহলের অন্ত নেই। সারাদিনের ঘর-গেরস্থালি সামলানোর পর স্নানটান সেরে বেশ একটা স্নিগ্ধ পবিত্রতা অন্তরে ধারণ করে…

  • একটি খুঁজে পাওয়া আংটি

    নাদিন গর্ডিমার অনুবাদ : সম্পদ বড়ুয়া   সব গোল্লায় যাক! মেয়েদের ব্যাপারে তার ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হওয়ায় কিছুদিন সে একা থাকাই শ্রেয় মনে করল। ভালোবাসার জন্যে দু-দুবার বিয়ে করেছিল। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী চলে যাওয়ার সময় তাঁদের যৌথভাবে কেনা প্রিয় জিনিসগুলো যেমন চিত্রকর্ম, দুর্লভ কাচের সামগ্রী এমনকি ভাঁড় থেকে তোলা দামি মদ – সব তুলে নিয়ে…

  • ঝরাপাতার অন্তিমযাত্রা

    শামসুল ফয়েজ   ঝরাপাতার শুকনা শবে ধুলার দলে পরায় কাফন; পথের পাশে গোরস্তানে অচিহ্নিত নীরব দাফন। ক্ষণিক শোকে মৌন থাকে দন্ডায়মান বৃক্ষসারি; হাওয়ার করুণ ভায়োলিনে থমকে দাঁড়ায় পথচারী। আগুনচুলা বিবর্ণ-ম্লান – দীর্ণ কায়ার দুঃখ নেভায়; ঝরাপাতার যাত্রা শুভ অন্তবিহীন কালের খেয়ায়।  

  • ও বালিকা

    চঞ্চল শাহরিয়ার   এনার্জি পিরিয়ডে ফোন দিও দুমদাম কথা হবে। কিশোরীরা হইচই করে শপিং সেন্টারের চলন্ত সিঁড়িতে পা রাখবে। ঠোঁটে লিপস্টিক মুছে দারুণ চুষবে ঈগলু আইসক্রিম। সমুদ্রে বেড়াতে যাবার সময় খালি থাকবে অনেকগুলো সিএনজি অটোরিকশা।   এনার্জি পিরিয়ডে ফোন দিলে শুকিয়ে যাওয়া রজনীগন্ধা নববর্ষের ভোরবেলাটুকু মনে করিয়ে দেবে আবার।   হারিয়ে যাওয়া কবিতার কথা তড়তড়িয়ে…

  • চিত্রকল্পের ঘুম

    ওবায়েদ আকাশ   ক. ভিক্ষাবৃত্তি খয়েরি আলোর ঠোঁটে নির্বিঘ্নে জ্বলছে তোমার বুক   শখ করে কিনে আনা মাটির হাঁড়িতে লেগে ছিল খয়েরি চাঁদমুখ   ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে গেছে কুমোরের প্রাজ্ঞ দুটি হাত সেই থেকে গোলাপি চাঁদের দিকে চেয়ে আছে বাড়ি   আজ আবার দড়ি টানো, বাঁধ ভেঙে জল টেনে আনো সাগরে জলের প্রযত্ন থেকে কেড়ে…

  • স্বপ্নহীনতার দিনলিপি

    জাহিদ হায়দার   আমি দেখেছি, জন্মান্ধরাই রূপকথা আর রৌদ্রের কবি। আমাকে বলেছে, মেঘেরা মলন দেয় নীলের শস্যকে; ভোরের নদীরা জানে, প্রথম স্বপ্নের জন্মদিন কবে।   তোমাকে না দেখেই কেবল অন্য মুখে শুনে, তোমার পুরাণ সারাদিন বলে গেল তারা।   কে প্রথম স্বপ্ন দেখেছিল, নারী, না পুরুষ? নাকি এক সাপ? স্বপ্নকথা বলেছিল ঘুম ভেঙে গেলে, হয়তো…

  • এ-মাটি ভেজাব ফের

    ফারুক মাহমুদ   প্রতিটি বৃক্ষের সঙ্গে একটি করে মানুষ থাকেন পুরুষ-প্রকৃতি নয়, নারী-শিশু ভবঘুরে নয় নয় সে রাজার দম্ভ, প্রজা বটে-খুব সাধারণ সোনার শৃঙ্খল রাখো, ভালোবাসো রৌদ্র-বৃষ্টি ঘাস সহজ চিন্তার মতো কেউ যদি মহত্ব অাঁকেন সে হবে স্বপ্নের চুড়ো যথাযথ সুখের সময় প্রতিটি শিশিরবিন্দু হয়ে যাবে অপার আকাশ গৌরবে জানানো যাবে প্রশান্তির শুভ জন্মক্ষণ  …

  • পথ হারাইয়াছ

    দুলাল সরকার   বৃষ্টি তুমি কি পথ হারাইয়াছ এখানে তো আউশক্ষেত ছিল?   শিউলি তুমি? তোমারও কি সঞ্চয় শেষ হলুদ বোঁটার সঙ্গে সাদা পেখমের স্মিত মগ্নতা মনে নেই?   স্বর্ণ আমন সুপুষ্ট অধর অগ্রহায়ণের অনুভূতি তারপর বিষণ্ণ বিষাদ খরের নির্জন   ভুলে গেছ উত্তুরে হাওয়ার চন্দন চন্দন ঘ্রাণ শীতের হেমাঙ্গ শীর্ণ গৃহী-সন্ন্যাসিনীর দেহের গোধূলি  …

  • হাতির জীবন

    শ্যামলকান্তি দাশ   এ-জীবন নারীঘেঁষা, কালো আর লম্বা হাতি, সারাদিন গাছপালা ভাঙে। ভেঙে ভেঙে পেটপুরে খায়।   তোমার মাটির বাড়ি শুঁড়তোলা, একা আর সাবধানি, ভোরবেলা তোমাকেও কী ভীষণ ভেঙে ফেলে – হাতির জীবনে কোনো হাতি নেই, থেমে থেমে ঢোলক বাজায়!