
June 2022
এই সংখ্যার লেখা
-

প্রসঙ্গ : নজরুলের যুগবাণী
‘বিদ্রোহী’ খ্যাত কবি নজরুলের ওপর বিদেশি রাজশক্তি যে প্রসন্ন থাকবেন না তা বলাই বাহুল্য। ‘বিদ্রোহী’ কবিতাকে ঘিরে ক্রোধে প্রশাসন নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলেও তাঁরা উপযুক্ত সুযোগের অপেক্ষায় দিন গুনছিলেন। তারা নজরুলের চলাফেরা ও কার্যক্রম সম্পর্কে সজাগ থেকে কবির পরবর্তী গতিবিধি বিষয়ে সর্বত্র গোপনে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিছুকাল পূর্বেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলো কবির প্রথম গদ্য সংকলন অর্থাৎ…
-

আমার নজরুল, আমার গানের বুলবুলি
জগৎজোড়া লোকের কাছে ‘ঝাঁকড়া চুলের বাবড়ি দোলানো’ বিদ্রোহী কবি তিনি, আবার সেই প্রবল দ্রোহের কবিই বাঙালির ‘দুখু মিয়া’। ‘চির-বিদ্রোহী বীর’ এই কবি নিজেই বলেছেন ‘চির-উন্নত শির’ তাঁর। এমন প্রবলতর জানান যখন দিয়ে যাচ্ছেন কবিতার ছত্রে ছত্রে, সেই কবিই আবার সেই একই কবিতায় বলছেন, ‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণ-তূর্য’। আর এই নিরন্তর…
-

অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে নিয়ে কিছু কথা
অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের অভিসন্দর্ভটি, যা নিয়ে আজকের আয়োজন, তা প্রায় ৭২ বছর আগে তিনি সম্পন্ন করেছিলেন। Political Parties in India নামে প্রকাশিত এই জ্ঞানগর্ভ গ্রন্থটির জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদার্হ এর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউপিএল এবং এর স্বত্বাধিকারী মাহরুখ মহিউদ্দিন। অ্যাকাডেমিক প্রকাশনার ৪৬ বছর পর অভিসন্দর্ভটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও বাংলাদেশের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকাশনা। স্বল্পপরিসরে এ-গ্রন্থের…
-

গীতগোবিন্দ
বাংলা কাব্য-রূপান্তর : অসীম সাহা তৃতীয় পর্ব পঞ্চম সর্গ কৃষ্ণ বলে, শোনো দূতি, আমার বচন। রাধাকে আনিতে আজ করো হে গমন ॥ এই কুঞ্জবনমাঝে আমার যে বাস। রাধা এনে পূর্ণ করো মোর অভিলাষ ॥ আমার মিনতি গিয়ে বলো রাধিকারে। পূর্বাবস্থা জানাইও, কানে দিও তারে ॥ রাধার বিরহে মোর প্রাণ নাহি রয়। রাধা ছাড়া জীবনের হলো…
-

অন্তিম
লো কটাকে বাঁচাবে বলে পড়িমরি করে তপু ছুটে গিয়েছিল। নতুন কিছু নয়, এটা ওর স্বভাব, বন্ধু-বান্ধব সবাই জানে। রাস্তার ঠিক মাঝখানে, যেখানে রক্তাক্ত হয়ে কাতরাচ্ছিল বুড়ো মানুষটা, সেখান থেকে সে একাই তাকে কোলে তুলে নিয়ে ফুটপাতের ওপর শুইয়ে দিলো। তারপর এতোটুকু সময় নষ্ট না করে মানুষটাকে নিয়ে সিএনজি অটোরিকশা করে সোজা চলে এলো হাসপাতালে। বৃদ্ধের…
-

ছায়াঘরের পিছু
শিশিরের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়েছিল ফেসবুকে। যদিও এর দশ বছর আগে আমাদের প্রথম পরিচয়। একটা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে আমরা দুজন একসঙ্গে পড়তাম। চার বছর পড়ার পর আমি চলে আসি উত্তর ঢাকায়। বাবার নতুন কর্মস্থলের কাছাকাছি। ভর্তি হই নতুন স্কুলে। দক্ষিণ ঢাকার গেন্ডারিয়ায় শিশিরের বাবার নিজের বাড়ি। কিন্ডারগার্টেন ছেড়ে ও ভর্তি হয় পার্শ্ববর্তী মনিজা রহমান গার্লস হাই…
-

গল্পকার
এই গল্প একজন গল্পকারের, যে আমার বন্ধু। গল্পটা তারই লেখার কথা ছিল। সে আমাকে প্রায়ই বলত, ‘জানিস, আমি আমাকে নিয়ে একটা গল্প লিখব।’ তারপর গল্পটা কেমন হবে, তার টুকরো টুকরো বিন্যাস আমাকে সে শোনাত। যাই হোক, সে এখনো গল্পটা লিখতে পারেনি। আর পারবে বলেও মনে হয় না। তাই আমাকেই গল্পটা বলতে হচ্ছে। শুনুন তাহলে গল্পটা…
-

মেলা
শান্তিপুর থেকে ইসমাইল এসেছে জন্মাষ্টমী মেলায় নবদ্বীপে। ‘এক হাজার একটা মন্দিরের শহর’ নামে খ্যাত শ্রী চৈতন্যদেবের আশ্রয় এই নবদ্বীপ। গুপ্তযুগে বাংলায় বৈষ্ণব-শৈব-শাক্ত প্রভৃতি পৌরাণিক ব্রাহ্মণ্য ধর্মমত প্রচলিত, বৈষ্ণব সহজিয়ারা তেত্রিশ কোটি দেবতায় বিশ্বাস করে না এবং প্রতিমা পুজোও করে না। শ্রী চৈতন্যদেবের অনুসারীরা একেশ্বরবাদী ধর্মের লোক অর্থাৎ বৈষ্ণব সহজিয়ারা এক ঈশ্বরের গুণকীর্তন করে। এই বৈষ্ণবধর্ম…
-

ছিনতাই
অনুবাদ : মেহবুব আহমেদ মেয়েটি দেখছিল একটি ছেলে গানের সুরে শিস দিতে দিতে এগিয়ে আসছে। একসময় সামনে এসে ছেলেটি দাঁড়িয়ে গেল, বিনীত ভঙ্গিতে জানতে চাইল, পপি স্ট্রিট কোন দিকে। প্রশ্নটির উত্তর দিতে মেয়েটি একটু দেরি করছিল, কিন্তু এটুকু সময়ে মধ্যেই যে ছেলেটি ওর গলার হার ছিনিয়ে নিয়ে দৌড় দেবে সে তা ভাবতে পারেনি। চিন্তামগ্ন মেয়েটি…
-

বিজ্ঞান ও দর্শনের দ্বন্দ্ব
এটি নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিজ্ঞান তার মাতৃরূপী দর্শনের থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে ভূমিষ্ঠ হয়েছে। প্রাথমিক যুগের দার্শনিকদের অন্তর্জ্ঞান বিজ্ঞানীদের মনোজগৎকে আলোকিত করেছে। আবার একই সঙ্গে বিজ্ঞানের ওপর দর্শন অনেক সময় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ারও জন্ম দিয়েছে, যখন প্রথাগত জ্ঞানের বাইরে নতুন চিন্তার কোনো অভিযাত্রায় তা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাজেই একটি নিঃসন্দেহে বলা যায়…
-
ইকারুস
ফিরে এসো ইকারুস ডানা পুড়ে যাবে সূর্যকে ছুঁতে নেই ওসব দেবতাদের একান্ত ভুবন; ফিরে এসো মাটির কাছাকাছি রেখে দিবাকর মাথার পেছনে নতজানু হও মা-ভূমির কাছে; বরং রোপণ করো একটি বৃক্ষের চারা গর্ভে ধরিত্রীর নতুন বীজসৃজন দেবে অমরত্ব তোমায় স্বপ্ন রাখো আকাশে দুটি পা পৃথিবীর বুকে; ফিরে এসো ইকারুস থাকো মা-মাটির কাছাকাছি ॥
-
কৃষ্ণগহ্বর
অমূল্য সময় গেল অবুঝ প্রেমে আর বাকিটা বয়স অতৃপ্ত কামে কিছুটা কাল ইট-কাঠ-কড়িবর্গার ধামে আর বাকি কালবেলা ঠুঁটো ঈশ্বরের নামে; এই সব কিছু নিয়ে জীবন শিরোনামে দুর্বল লেখকের ব্যর্থ চিত্রনাট্য যেমন পায় না কখনোই প্রাণ উজ্জ্বল পর্দায় তেমনই অজান্তে আমাদের অযুত সুখ-দুঃখ-স্মৃতি কত না আলোকবর্ষের অপূর্ণ স্বপ্নসাধ যত অচিন এক কৃষ্ণ গহ্বরে হারিয়ে যায় চিরতরে …
