
June-July 2020
এই সংখ্যার লেখা
-

মৃত্যুহীন প্রাণ : অধ্যাপক আনিসুজ্জামান
কিছুদিন আগে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান স্মরণে অনলাইনে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো – অনলাইনে, যেহেতু করোনা মহামারি আমাদের বাস্তব পৃথিবীকে ভেঙেচুরে এক উদ্ভট পরাবাস্তবে ঢুকিয়ে দিয়েছে, যেখানে কায়ার হয়ে ছায়া কথা বলে, সেখানে সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য জীবন্ত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে তার ছবি। আয়োজকরা আমাকে অনুরোধ করলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের – আমাদের প্রতিদিনের সম্বোধনে, স্যারের – যে-কোনো…
-

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান : স্মরণীর দিনগুলি
অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সঙ্গে কবে প্রথম আলাপ হয়েছিল আজ এতদিন পরে আর মনে পড়ে না। মনে হয় গত শতকের নব্বইয়ের দশকে কলকাতায় গোলপার্কে রামকৃষ্ণ মিশনের হলে আয়োজিত মকাইসের (মৌলানা আবুল কালাম আজাদ ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল সায়েন্স) একটি কনফারেন্সে ওঁর সঙ্গে আলাপ হয়। ওঁর বক্তৃতায় আকৃষ্ট হয়েছিলাম। মনে আছে সুললিত স্বচ্ছন্দ ইংরেজিতে বক্তৃতা দিয়েছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। লাঞ্চ…
-

জীবন থামে না
বাংলা নাটকের প্রবাদপ্রতিম পুরুষ শম্ভু মিত্র জীবনের রঙ্গমঞ্চ থেকে ৮২ বছর বয়সে বিদায় নেন ১৯৯৭-তে। সর্বজনশ্রদ্ধেয় জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী প্রয়াত হন ২০১১ সালে ৮৮ বছর বয়সে। দুজনেই তাঁদের ইচ্ছাপত্রে তাঁদের মৃত্যুকে ঘিরে শোকের আড়ম্বর বা আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করতে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। দুজনের ক্ষেত্রেই তাঁদের ইচ্ছার প্রতি যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বছরচারেক আগে আমাদের সদ্যপ্রয়াত…
-

স্মরণে আনিসুজ্জামান স্যার
আমার পুরো শিক্ষাজীবন কেটেছে রাজশাহীতে। রাজশাহী আমার হয়ে ওঠার শহর। ষাটের দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হই। সে-সময়ে আমাদের শিক্ষক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম ক্লাসে পড়ানোর সময় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মুসলিম-মানস ও বাংলা সাহিত্য বইটির উল্লেখ করেন। তিনি নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে বইটি সম্পর্কে ক্লাসে আমাদের বলেন। আরো বলেন, আনিসুজ্জামানের পিএইচ.ডি গবেষণার বিষয় ছিল ইংরেজ আমলের বাঙলা সাহিত্য-বাঙালি…
-

আনিসুজ্জামানের সাথে দেখা-সাক্ষাতের স্মৃতি
অনুবাদ : আশফাক স্বপ্ন ষাটের দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বসার কক্ষ ছিল সে-সময়কার ঘটনাবলি, ইতিহাস আর রাজনীতি নিয়ে সারগর্ভ ও সুবেদী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বঙ্গ বা বাংলা নিয়ে আলোচনা তখন তুঙ্গে – এই অঞ্চলের সমসাময়িক অস্বস্তি আর রাজনৈতিক প্রতিরোধ, এর সাংস্কৃতিক আর সাহিত্যিক পুনর্জাগরণ ছিল আলোচনার বিষয়। এসব আলাপ-আলোচনার মধ্যমণি ছিলেন অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক। তাঁকে ঘিরে…
-

আনিসভাই
১৯৬১ সাল। ঢাকায় তখন রবীন্দ্রবার্ষিকী পালনের জোর তোড়জোড়। দুটো কারণ। এক. শতবার্ষিকী। দুই. পাকিস্তানি সরকারের রবীন্দ্রচর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা। সুতরাং আমাদের জিদ ষোলো আনা ছাড়িয়ে। মানব না এ-বন্ধনে, মানব না এ-শৃঙ্খলে – তরুণসমাজ, মাঝবয়সী ও বয়সী সবাই একাট্টা। আমাদের দাবি প্রাণের। সংস্কৃতির। অধিকারের। পাকিস্তানের বয়স তখন তেরো-চৌদ্দো। আমাদের মূল সাংস্কৃতিক বন্ধনটি হাজার বছরের বাঙালি ও বৃহত্তর…
-

মৃত্যুঞ্জয়ী আনিসুজ্জামান : তাঁর প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও তাঁর লেখালেখিতে বাংলাদেশের শিল্পী ও শিল্প
‘মানুষ মৃত্যুকে এড়াতে পারে না, কিন্তু কেউ কেউ মৃত্যুকে জয় করতে পারে।’ কথাগুলো লিখেছিলেন আনিসুজ্জামান ২০০৬ সালে তাঁর এক প্রিয় শিল্পীবন্ধু নিতুন কুন্ডু সম্পর্কে তাঁর মৃত্যুর পর। নিতুন কুন্ডু ছিলেন আনিসুজ্জামানের সমবয়সী। মারা গিয়েছিলেন ৭০ বছর বয়সে। নিতুন কুন্ডুকে তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষদের একজন আখ্যায়িত করেছেন। আনিসুজ্জামান মৃত্যুবরণ করেন তিরাশি বছর বয়সে। তিনি মৃত্যুকে জয় করেছেন।…
-

আমাদের একাত্তর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আনিস স্যারের সান্নিধ্যে
বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে অর্থাৎ ১৯৫০-এর দশকে বাংলাদেশে যে-রেনেসাঁস বা নবজাগরণের সূচনা হয়েছিল, সেই রেনেসাঁসের অগ্রণী পুরুষরা ছিলেন আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. কাজী মোতাহের হোসেন, ড. এনামুল হক, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, আবুল ফজল, সরদার ফজলুল করিম, আব্দুর রাজ্জাক, বদরুদ্দীন উমর, রেহমান সোবহান, ড. মাহমুদ, শওকত ওসমান প্রমুখ। পঞ্চাশের দশকেই এই অগ্রণী চিন্তানায়কদের সঙ্গে…
-

আনিসভাই
আনিসভাই, সারা পৃথিবীর বাঙালি এবং বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতির অনুরাগীদের কাছে অতি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, গত ১৪ মে (২০২০) প্রয়াত হয়েছেন। সব মৃত্যুই মানুষের মৃত্যু, প্রিয়জনদের কাছে এক বিপুল বেদনাময় শূন্যতা, এবং মৃত্যু ক্ষুদ্রমহতের বাছবিচার করে না; তবু ভাবতে খারাপ লাগে যে, বিশ্বব্যাপী করোনার অতিমারি বাঙালির এই মহিমাপূর্ণ অভিভাবককেও তুলে নিল, তাঁকেও রেহাই দিলো না। পৃথিবীর অনেক…
-

এক ও অদ্বিতীয় আনিসুজ্জামান
বলতে পারি না, আমি কখনো তাঁর ঘনিষ্ঠ ছিলাম। গত দু-বছরে দেখা হয়নি একবারও। মফস্বলে থাকি। ঢাকা যাইনি অনেকদিন। এক সাহিত্য-সংস্কৃতি মেলায় তিনিই এখানে এসেছিলেন। তারপর আর না। ফোনালাপও নয়। সংকোচ ছিল আমারই। অকারণে তাঁকে বিরক্ত করা – মন চায়নি। তাছাড়া তাঁর শরীরের অবস্থা! সাবধান হতে হয় বইকি। তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান – আমাদের সবার…
-

আমার বন্ধু ও সহকর্মী আনিসুজ্জামান স্মরণে
প্রফেসর আনিসুজ্জামান আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী ছিলেন। তিনি আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি, সমাজ ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে ছিলেন একটি আলোকবর্তিকার মতো এবং একটি অবিস্মরণীয় নাম। তাই আজ অত্যন্ত দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তাঁকে স্মরণ করছি। অতি অল্পদিনের ব্যবধানে চলে গেলেন আমাদের সমাজের গর্বের মানুষ বেশ কয়েকজন – স্যার ফজলে হাসান আবেদ, ভাষাসৈনিক ও বাংলাদেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক ডা.…
-

আনিসুজ্জামান স্মরণ
আনিসুজ্জামানের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয় শিকাগোর ইন্টারন্যাশনাল হাউজে, ১৯৬৫-তে। আমার বন্ধু কে.এল. কৃষ্ণ তখন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পিএইচ.ডি করছেন; আমি ব্লুমিংটন, ইন্ডিয়ানা থেকে তাঁর কাছে বেড়াতে এসেছি। আনিসুজ্জামান ‘দক্ষিণ-এশীয় ভাষা ও সভ্যতা’ বিভাগে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো। কৃষ্ণই বোধহয় আলাপ করিয়ে দিলেন। ঢাকার মানুষ। নম্র। তাঁর বিদ্যাবত্তার কথা তখন কিছুই জানি না। কিন্তু পরে যখন ১৯৭০-এ…
