
June 2015
এই সংখ্যার লেখা
-
বউমা ও চাঁদনি
সাকিরা পারভীন রাত বারোটায় গেটের চাবি খুলে একা একা বউমাকে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেছে। পাশের বাড়ির দারোয়ানের এ-তথ্য এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বাড়ির পাশে বারোতলা বিল্ডিং সমস্ত আকাশপথ দখলে নিয়েছে। বছরখানেক ধরে চেষ্টার পরও বউমা বারান্দায় দাঁড়িয়ে জ্যোৎস্না দেখতে পারে না। তাই এই অভিলাষ। আজ বাড়িঅলা ঘুমিয়েছেন। বউমা সাহস করে চাঁদ দেখে ফেলেছে আর এই…
-
পেছনে ডেকো না
রহিমা আখতার কল্পনা হারিয়ে যেয়ো না মিঠা জল, প্রিয়পাতা সবুজ সুহৃদ হারিয়ে যেয়ো না মুখচম্পা, কৈশোরিক চাঁদছোঁয়া নিদ হারিয়ে যেয়ো না প্রিয়পদ্ম, বর্ষালক্ষ্মী – শৈশবের মুখ হারিয়ে যেয়ো না জোনাকিরা, রাত ভালোবেসে খোঁজো সুখ। আড়ালে থেকো না প্রিয়কুঁড়ি, ফুটে ওঠো রোদের সোহাগে আড়ালে থেকো না কাশবন, ঢেউ তোলো – ধু-ধু চর জাগে আড়লে…
-
ইচ্ছেপাখি
নাসরীন নঈম একটি টাটকা কবিতার জন্য আমার কলম কাঁপছিল বহুদিন এখনো কাঁপছে। আমি মনকে বোঝাচ্ছি থামো মন যখন নির্জলা অবসরে যাবো জীবন ঘষে ঘষে আগুন জ্বালাবো অবশ্যই টাঙ্গাইল শাড়ির পাড়ের মতো মিহি সুতার কবিতা আমার কলমে উঠবে। আমি সেই কবিতাটি নিয়ে একবার শামসুর রাহমান আল মাহমুদ নয়তো সুভাষ মুখোপাধ্যায় এবং নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর কাছে…
-
অন্যমনস্ক ভ্রমে থাকি
গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের বিষয়ে আমি কতটুকু জানি এ-কথাই একা বসে মাঝে মাঝে ভাবি যা ভাবি না তা হলো পিতৃঋণের যতটুকু এতটা জীবনধরে মিটিয়ে দেবার আয়োজন করলাম তবু তা মেটাতে পারলাম কই শোভনা ও অতুলচন্দ্রের জ্যেষ্ঠ ছেলে আমি মাদারীপুরের স্বপ্ন ছিন্ন করে কবে এ-শহরের আনাচ-কানাচ ঘুরে আমরা থিতু হয়েছিলাম এখন আর তা মনে নেই…
-
ভালো আছো তো
মাহফুজ পারভেজ কেউ কোনোদিন নিশ্চয় খুঁজবে – বলবে ‘ভালো আছো তো?’ আমি তখন একটি মায়াবী নদীর ছায়ায় দাঁড়িয়ে নিজের কোনো কথাই বলতে পারবো না; জানতে চাইবো তোমার ঠিকানা – ফিরে যাবো পুরনো সিন্দুকে মরিচাবিক্ষত নীল ছুরির চুম্বনে খুঁজবো দিগন্ত মাস্ত্তলে তোমার স্পর্শ দেখবো সারাটা জীবন উপুড় হয়েছে তোমার স্মৃতিতে : কেউ কোনোদিন নিশ্চয় খুঁজবে…
-
দেখে নিয়ো
হাসান হাফিজ চিন্তা নিয়ে পড়েছি বিপাকে। মগজে সে ঘূর্ণিঢেউ তোলে, নেচে যায় ছন্দোহীন, উথালি-পাথালি জ্বরে তৈরি করে শরীরে কাঁপুনি রিখটার স্কেলে যার মাত্রা বড়ো বেশি এভাবেই হতে থাকে জীবনীশক্তির ক্ষয় কমে আসে আয়ু, চারিদিকে অশান্তির বায়ু বেয়াড়া সে-রক্তচাপ বাড়তে বাড়তে আশা ছাড়তে হয়। জীবনের, সমৃদ্ধির। নদী ভাঙে তীর। ভাঙতে ভাঙতে নিরাশ্রয় ফুরিয়ে শূন্যতা ছোঁয়…
-
আমাদের নতুন স্কুল
হাবীবুল্লাহ সিরাজী পাটিতে মাটির পাঠ আকাশ শেখায় তার গলাগলি ভাব সমুদ্রের অভিযানে স্বপ্ন জানে বায়ু আগুনের ভিন্ন মানে অরণ্যে গোপন খুলিতেছে আমাদের প্রাইমারি স্কুল : ১. পরিযায়ী পাখিরা তো ভূগোলে তুখোড় ২. বাংলায় মহাব্যস্ত ধ্রুব বনসাই ৩. ইতিহাস উল্টায়-পাল্টায় ওরাংওটাং ৪. স্যামনের পেটে-পিঠে ইংরেজির তেল ৫. অঙ্কের নানান বোঝা গোলাপের ঘাড়ে টেবিলে নুনের…
-
চুরি
শ্যামলকান্তি দাশ কেউ তালা ভাঙছে। চড়চড়াৎ শব্দ হচ্ছে পাথরের দরজায়। চুরি করবে। চুরি করবার আগে একটু দম নিচ্ছে। একটা দেশলাই জ্বলছে। ভাবছে, এই এতগুলো সোনার সিঁড়ি, সিঁড়ি টপকে যাওয়ার পর এই এতগুলো মানুষ, মানুষ অতিক্রম করবার পর বাড়িভর্তি অন্ধকার! একটা পূর্ণাঙ্গ ছাদ সুষুপ্তিকে জাগিয়ে রেখেছে। হুড়কো খুলে ফেলবার পর কেউ ভাবছে প্রলয়ের আগে…
-
নিতল গহবর
মাহবুব সাদিক স্বপ্ন দেখার মতো চোখ নেই আর কারো প্রাচ্যে কিংবা দূরপ্রাচ্যে তবু গভীর বিস্ময়ে দেখি কোমল রোদের নিচে কোদালের ফালে বাংলার কৃষকেরা নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বলে স্বপ্ন খুঁড়ে তোলে, যদিও মাটি নেই আর নেই প্রকৃত ও প্রাকৃত মানুষ পায়ের তলায় কালো নিতল গহবর আলোড়িত হওয়ার মতো হৃদয়ের সুনন্দ উদ্ভাস কোথায় স্থিরতা পাবে কেউ তা…
-
এই গাড়ি, ওই গাড়ি
নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বাড়ির অদূরে নদী, নদীর উপরে ব্রিজ, ব্রিজের উপরে ঝমাঝম শব্দ তুলে এতক্ষণে যার নদীটিকে পেরিয়ে যাবার কথা ছিল, সেই যাত্রীতে-বোঝাই প্যাসেঞ্জার-গাড়ি আজকে এখনো এ-পাড়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। মাঝে-মাঝে সিটি দিচ্ছে অবশ্য। তা দিক। আসল কথাটা এই যে, সামনে ওই সিগন্যালের বাতি যতক্ষণ না নিষেধের রক্তবর্ণ ছেড়ে আবার সবুজ হচ্ছে, ঠিক ততক্ষণই এ-গাড়ি…
-
সবুজ পাহাড়ে লাল শাড়ি
নুরুন নাহার লিলিয়ান এক টুকরো লম্বা কাপড় একটি দেশের জাতীয় পোশাক হতে পারে, এটা তাকাহাশি সাইতর চিন্তার মধ্যে নেই। অবশ্য সে নিজেই যেন বিচিত্র পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপ। অন্তর্মুখী মানুষটি স্বল্পভাষী হলেও তার ছোট একজোড়া চোখ যেন ভীষণ কৌতূহলী ও চঞ্চল। ইংরেজি ভাষা অনুশীলনের একটি দলে প্রথম তাকাহাশি সাইতর সঙ্গে লিরিক লিরার পরিচয়।…
-
শেফালি
মহি মুহাম্মদ লাইনে নতুন একটি মেয়ে এসেছে। চোখ টানে। ডবকা-ডুবকা। ঢলোঢলো ভাব। অনেকের নজর পড়েছে মেয়েটার ওপর। ওর ভাবসাবও ভালো নয়। গত রাতে সাদেক মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। লাইনটির নাম হরিশ্চন্দ্র লাইন। এর শেষ মাথায় কলতলা। ছোট একটি বারোয়ারি টয়লেট। পানির একটা ট্যাপ। পাশে একটা হাউস। পানি এলে সেখানে জমা হয়। ওখান থেকে মগ কেটে পানি…
