এই সংখ্যার লেখা

  • মঞ্জু সরকারের ছোটগল্প এবং রূপান্তরের গল্পগাথা

    আমির মুহম্মদ খসরু গল্পকার মঞ্জু সরকারের প্রথম গল্পগ্রন্থ অবিনাশী আয়োজন পাঠ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল গত শতকের মধ্য আশির দশকে, যখন আমি সদ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। প্রভূত আনন্দের সঙ্গে আমি একথা স্বীকার করি, অবিনাশী আয়োজন পড়ার মধ্য দিয়ে পাঠক হিসেবে আমার বড় একটি উত্তরণ ঘটেছিল। এতে আমার ভেতরে তাঁর সম্পর্কে যেরকম প্রচন্ড আগ্রহ আর কৌতূহলের…

  •  দেশভাগের দলিল

    বুলবন ওসমান   শিরোনাম বেশ দীর্ঘ হয়ে গেল। আসলে ব্যাপারটির গুরুত্ব অনুযায়ী তা হতে বাধ্য। শিল্পকলার ক্ষেত্রে কথাই তো আছে, ‘ফর্ম’ ফলোজ ফাংশান – তেমনি সাহিত্যে আছে ‘কনটেন্ট ফলোজ ফর্ম’। ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট ভারত ত্রিখন্ডিত হয়ে গেল। পূর্ব এবং পশ্চিমের খন্ডদুটি পাকিস্তান, মুসলিমদের দেশ – আর বাকি ভারতবর্ষ হিন্দুস্তান। সঙ্গে সঙ্গে কি দুটি দেশ…

  • জীবজন্তুর গল্পের আশ্চর্য জগৎ ও সুকুমার রায়

    মননকুমার মন্ডল সুকুমার রায়ের গল্প বাংলা শিশুসাহিত্যের সম্পদ। যোগীন্দ্রনাথ সরকার, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পর সুকুমারের রচনা বাংলা শিশুসাহিত্যকে সাবালক করে তুলেছিল। কিন্তু সুকুমারের গল্প শুধু শিশুদের নয়, বড়দের চেতনাকেও আচ্ছন্ন করে আসছে এতকাল। কথন-বাচনে, দৈনন্দিন জীবনচর্যায় সুকুমারের বিভিন্ন বাক্যবন্ধ ও শব্দাবলি সুভাষিতে রূপান্তরিত। আবোল-তাবোলের জগৎ কিংবা খাই-খাইয়ের জগৎ যেমন বাঙালি-মননে নিখাদ ফ্যান্টাসির রূপময়তাকে তুলে ধরে, তেমনি…

  • জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর গল্পে চেনা স্বর

    আশরাফ উদ্দীন আহ্মদ জ্যোতিরিন্দ্র নন্দীর (১৯১২-৮২) জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। একই জেলায় আরেক প্রবাদপুরুষ সাহিত্যিক অদ্বৈত মল্লবর্মণ (১৯১৪-৫১) জন্মেছিলেন। মল্লবর্মণের মতো নন্দীও দারিদ্র্য আর অভাব নিয়ে জন্মেছিলেন। ১৯৩৬ সালে মাত্র চবিবশ বছর বয়সে তাঁর ছোটগল্প ‘নদী ও নারী’ পরিচয় পত্রিকায় প্রকাশের পরপরই গাল্পিক হিসেবে নাম ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ আবার কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের…

  • নজরুলের একটি অজ্ঞাত-অগ্রন্থিত গান

    নজরুলের একটি অজ্ঞাত-অগ্রন্থিত গান

    আবুল আহসান চৌধুরী     কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) কত গান রচনা করেছিলেন তার কোনো লেখাজোখা নেই। এ-বিষয়ে একেকজন একেক ধরনের হিসাব দিয়েছেন। অসুস্থতার আগে নজরুলের যেসব গানের বই বেরিয়েছিল তাতে তাঁর রচিত গানের অল্পই সংকলিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পরেই তাঁর গানের একত্র-সংকলন প্রকাশের উদ্যোগ গৃহীত হয় এবং সেই সঙ্গে তাঁর গানের তালিকা প্রস্ত্ততের কাজেও…

  • পলাতকা ছায়া

    সনৎকুমার সাহা   বইটির কবিতাগুলো নিয়ে কাউকে খুব একটা কথা বলতে শুনি না। তাঁর ‘কাব্যে উপেক্ষিতা’র ভাগ্য বুঝি এদেরও। পেছনে গীতাঞ্জলি-গীতিমাল্য-গীতালির (১৯১০-১৪) এক সুসম্পূর্ণ ও বিশ্বনন্দিত ভুবন; তারপরই সাহসী পালাবদল এগিয়ে-যাওয়া বলাকায় (১৯১৬)। একটু ক্ষান্তি দিয়ে অল্পসময়ের একপশলা বর্ষণ – পলাতকার (১৯১৮) প্রায় এক ধরনের এই কটি কবিতা। মোট সংখ্যা পনেরো। শিশু ভোলানাথ (১৯২২) পড়ার…

  • সভ্যতার সংকট ও রবীন্দ্রনাথ

    আনিসুজ্জামান মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে নিজের আশি বছর পূর্তি উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ যে-অভিভাষণ রচনা করেন, তার নাম দিয়েছিলেন সভ্যতার সংকট। জন্মোৎসবে সেটি পাঠ করে শোনান ক্ষিতিমোহন সেন। এর একটি ইংরেজি অনুবাদ করেছিলেন ক্ষিতীশ রায়, তা পরিমার্জনা করেন কৃষ্ণ কৃপালনী এবং চূড়ান্তভাবে দেখে দেন রবীন্দ্রনাথ। শুনেছি, এর শিরোনাম Crisis of Civilization হবে না Crisis in Civilization,…

  • মণিপুরি থিয়েটারের লেইমা এবং আরো কিছু কথা

    অলোক বসু বাংলাদেশের নাটক বলতে এখন শুধু বাংলা ভাষার নাটক বোঝায় না। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও মাঝেমধ্যে নাটক হচ্ছে আমাদের দেশে, সেই ধারায় সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে মণিপুরি ভাষার নাটকও। বাংলা ভাষাভাষীদের বাইরে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে তাদের ভাষায় নাট্যচর্চা হলেও তা কখনো এ-দেশের মূলধারায় এসে মিশতে পারেনি। তারা যেন ব্রাত্যই থেকে গিয়েছিলেন এতদিন ধরে। ঢাকা…

  • রাতের হাড়গুলো

    হাসান হাবিব   যখন দৃশ্যগুলো অবাধ মিশে গেল উষ্ণ মেঘে হিম পালঙ্কে ছড়িয়ে থাকা বৃক্ষের আলস্য ফিরে গেল জানালায় – রংচঙে শার্টগুলো উড়ছে বারবনিতার স্নানে…   মেঘের অনেক মুখোশ; দেয়ালের ভঙ্গি কেউ বোঝে না – শুধু নদীর উষ্ণতা বুক ভরে নেয় আদিম আকাশ   সে কত ঘুম তোলে। অবিরত লাঙল কাঁধে একাকী নিশীথে ছোটে হিম…

  • মৃত নক্ষত্রের শহরে

    রাহমান ওয়াহিদ কারো কারো চোখে প্রজাপতি বসলে কারো চোখ থেকে পিঁপড়ের বিষ উপচে পড়ে – যেন দহনে কালো হোক প্রজাপতির পেলব ডানা। আমার পাঁজরের খোলেও এক আদিম জিঘাংসা কার যেন বুক এফোঁড়-ওফোঁড় করে আর ক্ষরিত রক্ত ঝরে জমাট বাঁধে আমারই হৃৎপিন্ডে। ক্ষুধা নিবৃত্তিতেও কার যেন মাংসাশি দাঁত হলকুম কামড়ে ধরে, যেন গিলতে না পারি হেমলকও…

  • গুহায়

    হামীম ফারুক রুক্ষ মানচিত্রের মতো মুখ, নিচে আলো ও অন্ধকার ফাঁকা দেশলাইয়ের বাক্স হাতে গুহার ভেতর, একা   সন্ধ্যা নামেনি, বাদুরের ডানা ঝাপটানি শুনি কাঁধের ওপর   মৃত হরিণের শিং, অস্থির স্তূপ ভারী পায়ে পায়চারি – দূরে সতর্ক চোখে কড়া পাহারা, ধোঁয়ার বলয়   গোপন ঝরনায় কারো অসমাপ্ত স্নান টের পাই শিরদাঁড়ায়

  • মৃত্তিকার ঘর

    শ্যামলী মজুমদার   সম্পর্কগুলি এখন শীতরাত পাড়ি দিচ্ছে… গ্রহ যেরকম পুঞ্জীভূত শক্তি কেন্দ্র ছেড়ে ছুটে ছুটে এসেছে ছায়াপথ ধরে শীতল শীতলতর যুগ, কোটি আলোকবর্ষব্যাপী বরফ আর হিমবাহের গল্প… তারপরও বলো : বাসযোগ্য হলো কি আমাদের এই মৃত্তিকার ঘর!!   তুমি আমি আরো কত মুখ শত সহস্র চোখ নীল বেদনায় উন্মুখ, দূর ছায়াপথে হেঁটে যায় একে…