মাউসট্রাপে মানুষ ধরা পড়বে না, তবে তা যখন নাটক
তখন তা চলতেই পারে বছরের পর বছর, নানারকম ঝাল-মিষ্টি-টক
বিতরণ করতে পারে বিগবেন ঘড়ি – শহরের হর্ষদর্শকদের!
কিসে যে নাটক হয়, অথবা হবে না, অতীততাড়িত নিয়মের
দৃশ্যসজ্জা দেখে, সংলাপ শুনে কেউ পারবে বলে দিতে! সবিনয়ে
বলি- আজ তারিখ ১. ১০. ২০০১ স্ট্রাডফোর্ড-অন-অ্যাভনে
শেক্সপিয়ারের জন্মবাড়ির বাগানে পাথরলজ্জিত রবীন্দ্রনাথকে দেখতে গিয়ে
পাশের থিয়েটারে শেক্সপিয়ারের নাটকও দেখলাম, দেখে মনে
হলো,
মেক-আপ্, আলোকসম্পাত, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সাউন্ড, সপ্তম সুরে
কণ্ঠকে প্রায় চিৎকারের মতো তুলে ঘুরে ঘুরে ডায়লগ বলার দিন হয়তো এবার
দ্রুত শেষ হবে- অভিনয় এমনই অবিশ্বাস্য সহজ স্বাভাবিক! খানিকটা দূরে
প্রায় আদি-গঙ্গার মতো রোগা অ্যাভন নদীর ধারে
চুপ শেক্সপিয়ার মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন
একসময় তিনি নাট্যালয়ে নাটক দেখতে আসা দর্শকদের ঘোড়া সামলাতেন,
তারপর কী যে ছিল বিধাতার মনে, একদিন নিজেই নাটক হয়ে গেলেন!
যে নাটক মঞ্চে দেখি, জীবনে তা কখনোই দেখবো না! তবু
স্বর-প্রক্ষেপণে, স্টেজের চলায়, অভিনেতা হয়ে যান দর্শকের সাময়িক প্রভু
ওই সব কৃত্রিম প্রতিভূ
দেখতে দেখতে তখন নিজেকে যদি স্টেজের রঙ-মাখা মানুষটির
চরণদাস বলে মনে হয়! তবে তা ঠিক যুধিষ্ঠির
মিথ্যা হবে না, অশ্বত্থামা হত বা জীবিত তাতেও আর কিছু যাবে আসবে না!
চলুক না মাউসট্রাপ বছরের পর বছর, তা দেখতে দেখতে কিশোর কিশোরীরা উঠুক
যুবক যুবতী হয়ে, তবু শেক্সপিয়ারের অনপেক্ষ নাট্যভাবনা, সাহিত্যচেতনা
আমাদের উন্মনা করবেই, প্রিয় নাট্যকার বন্ধু মোহিত চট্টোপাধ্যায় যতই বলুক
নাটক সাহিত্য না!
তবু ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’-এর বাইরেও যে শেক্সপিয়ার তাকে মানুষ কখনো ভুলবে না।

