জীবন খুঁড়তে খুঁড়তে

এক ফোঁটা ঝরে অশ্রু চোখের, এক ফোঁটা আগুন

আর এক ফোঁটা দিয়েছি তোমাকে বেদনামথিত করে

বাকি কিছু নেই আমার জন্যে, শূন্য পিপাসা, শুকনো ত্বক,

কি করে বলি জীবন মরুভূমি, তবু তো মরুতে বালির ঝড় –

বুকটা খুঁড়ে আয়ু টেনে আনি তোমার মতো নিষ্ঠুর হই

গাছপালা ছিঁড়ি, শেকড় বাকড় আরো বেশি ছিঁড়ে আনি

আমাকে আর শিখিয়ো না ছলাকলা, জীবনের স্বাদ,

প্রয়োজন নেই। জব্দ আমি নিজেই। তুমি চৈত্রের ফুটন্ত খই।

হাসি পায় নাকি চৈত্রের খনখনে আগুনে? কী গোনো

বলতেই পারো না! মুক্ তুমি, আড়ষ্ট জিহ্বা, চোখটা বন্ধ করো,

নীরব সাক্ষী যদি হতে তবু তো ভাবতাম অভ্র আকাশ নিচে

এক ফোঁটা ঝরে বৃষ্টির জল, এক ফোঁটা তোমার ক্রন্দন –

আমার পৃথিবী বড় জ্বালাময়, বড়ই কঠিন, শান্তি-কল্যাণ নেই

সে সব কবেই জ্বলে পুড়ে গেছে, পঙ্গু করেছে জীবনের ঠাঁই

ধোঁয়াশায় ছিঁড়ে গেছে দীর্ণ বুকের খাঁচার তার

পাখির পাখার ঝাপটা, জানা নেই প্রতিবাদের ভাষাও আর।

জীবন খুঁড়তে খুঁড়তে পুড়তে পুড়তে চলে গেছে সময়

নিষাদ নগরে কেউ যেন ডাকে মনে হয় আজো

এমন তপ্ত লেলিহান শিখা জ্বলতেই থাকে

এ-খোঁড়ার কাজ শেষও হবে না জানে মহাকাল

আমিও জানি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে যায় রাস্তা

বিবরে ঢুকে যায় আত্মার অংশ, অন্যটা কোথায়

তাও জানি না, বুকে যে জ্বালা, সে তুমি বোঝো না,

পাথরে পাথরে সংঘর্ষ, অগ্নির শিখা কতটা লেলিহান

তাও কেউ বোঝে না। মাংস খসে পড়ে খণ্ড খণ্ড।

হঠাৎ বুঝি আকাশ ভেঙে মাথার উপরে পড়ে

সাক্ষীসাবুদ কেউ নেই, আমি একা পথচারী

একাই করি অতিক্রম গভীর গর্ত, খানা ও খন্দ

উলট-পালট হয়ে যাই, চলে যাই হাওয়ার তোড়ে –

অনেকটা দূরের পথে মিশে যাই। ফিরব না আর

সত্যি বলছি ব্রত – চোখের মাংস কেটে তোমাকে দেই,

এক ফোঁটা দেই আগুন, এক ফোঁটা তৃষ্ণা বুকটা খুঁড়ে আয়ুটা তোমাকেই দেই র্জরা র্জরা।