(উৎসর্গ : অকালপ্রয়াত এক বন্ধুর উদ্দেশে)
টিএসসি সড়কদ্বীপ থেকে কথারা উড়ত হাওয়ায়
আর আমাদের বৈকালিক ক্লাসে নানান খণ্ডদৃশ্য
মুহুর্মুহু নেমে আসত বহুতর ধ্বনিসঙ্গে
আমরা দেখতাম, বৃষ্টি নামছে শস্যদানার মতো
ওদের কুড়িয়ে নিয়ে শূন্য পকেট ভ’রে
আমরা ফিরতাম যে যার বাড়ি।
তুই বলতিস, কবিতার জন্য কিছু অপেক্ষা লাগে
যেমন ফসলের জন্য আমরা অপেক্ষা করি বৃষ্টির
বলতিস, অপেক্ষা এক প্রেমিকার নাম
খোলা জানালার পাশে থাকে
আর ছুঁয়ে দিলে অমনি জেগে ওঠে অভিমান
তখনই ওকে জড়াতে হয় গাঢ় আলিঙ্গনে
নিবিড়তম চুম্বনে।
দেখতাম চুমুরাও কেমন হাওয়ায় উড়ছে
ওদের লুফে নিয়ে পকেট ভরাব বলে
আমরাও উড়াল দিতাম বাতাসে …
এখনো সন্ধ্যা হলে ঘরের কাছাকাছি এসে দেখি
জানালায় অভিমানী শাড়ি, সিক্ত আঁচল …
অথচ পকেট ফুটো হয়ে সব শস্যদানা, বৃষ্টি লুটিয়ে যাচ্ছে পথে
সেইসঙ্গে অপেক্ষমাণ চুম্বনগুলোও ছত্রখান
ছড়িয়ে পড়ছে দিগি¦দিক …

