এই সংখ্যার লেখা

  • সাহিত্যের মহোৎসব

    সুমনকুমার দাশ   উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী হেমাঙ্গ বিশ^াস (১৯১২-৮৭) তাঁর আত্মজীবনী উজান গাঙ বাইয়া বইয়ে সিলেটে অনুষ্ঠিত একটি সাহিত্য সম্মেলনের বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে : ‘১৯৪৩-৪৬ সালের মধ্যে প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের আমন্ত্রণে পরপর মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় সিলেটে আসেন। তাঁদের কেন্দ্র করে প্রগতি সাহিত্য সম্মেলনগুলিতে সিলেট শহরে যে বিরাট সমাবেশ ঘটেছিল…

  • স্তব্ধতাই কীভাবে কবিতার  ভাষা হয়ে ওঠে’

    স্তব্ধতাই কীভাবে কবিতার ভাষা হয়ে ওঠে’

    শঙ্খ ঘোষ সাক্ষাৎকার গ্রহণে দীপকরঞ্জন ভট্টাচার্য পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ প্রশ্ন : পাঁজরে দাঁড়ের শব্দ কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ-কবিতাটি কি স্বপ্নে-পাওয়া কবিতা? উত্তর : অনুমানটা ঠিকই। বেশ কয়েকটি লেখা আমার আছে, যা স্বপ্ন থেকে শুরু, কয়েকটির পুরোটাই স্বপ্ন। যেমন এই একটা। প্রশ্ন : ভিন্ন অর্থে এই কাব্যগ্রন্থে আপনাকে সঞ্জয়ের মতো মনে হয় আমাদের, যিনি নামহারা গহ্বরের  দিকে ফিরে…

  • সিসিফাস

    আহমেদ বাসার   ওই তো দেখা যাচ্ছে নীল পাহাড়-চূড়া, খুব বেশি দূরে নয় তবে, ক্লান্ত নদদ্বয় তোমরা সক্রিয় থাকো আর কিছুক্ষণ, মাথার ওপর সেই বিকট পাথর বড় বেশি পতনোন্মুখ, দুহাতে রেখেছি ধরে যদিও অজস্রবার বিশ্বাসঘাতক প্রপঞ্চে পড়েছে গড়িয়ে এ বিশাল পাহাড়, একের পর অনন্ত শূন্য দিতে দিতে উঠেছি, নেমেছি আবার একের আগে অজস্র শূন্য দিতে…

  • ফেরা

    মিজানুর রহমান বেলাল   স্মৃতিফসিল নিয়েই নাটোর স্টেশনে দাঁড়িয়ে – একা বাঁ-পাঁজরে খামচি কাটে – ঘুম হারানো রাত ঘামফুল ঘ্রাণ নিয়ে দেখি – লোকাল ট্রেনের নীরবতা   দেখি – কংক্রিটের কদমফুলে হলুদ আলোর সার্কাস স্টেশন মাস্টারের হাতে – সবুজ জোনাকির দৃশ্যকল্প ধাতব ধূসর রেল আর চাকার যাবজ্জীবন চিৎকার সময় হারানো হরিণের ছোটাছুটি – বদলে যায়…

  • বৃষ্টি, আজ কেন হবে লাশ?

    সাখাওয়াত টিপু   কে তুমি কোমল জল, বলো : বরফের কলা বৃষ্টি যেন বিঁধে আছে মিকাইল, গাঙুরের ফলা না উত্তুরে, বহুদূরে এখন কেবল গাইবে বাতাস লাল হয়ে ইতিহাসে ভেসে যাবে মানুষের লাশ!   আজ ঝড়ে বর্ণ মুছে যায়, কে তুমি সুসুপ্ত চোরাটান খোলা মুনাফার মতো ঝরে ঝরে যাও, কি একাকী প্রাণ! না হয় চিনবো পরে,…

  • কাঁটা

    সেলিম মাহমুদ   সাবধানে পথ চলো, পথ যেন না হয় পিচ্ছিল। কাঁটা, ঝোপঝাঁড় থাকলেও সাথে না থাকুক সীমা-লঙ্ঘনের কাঁটাতার। বড় বৈরিতায় বয়স বাড়ছে আজকাল না পাচ্ছি বন্ধন, না কোনো প্রণোদন। ইলিশের কাঁটা নিজেই গলার কাঁটা হয়ে ভয় দেখাচ্ছে রসনা-বাসনায়।   কেমন যেন শরীর-সওয়া এক গা-ঘিনঘিনে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্যাপন করছি সেরা, মরা দিনগুলি!

  • বসে আছি

    শতরূপা সান্যাল   বহু বহু চান্দ্রমাস এভাবেই পথ চেয়ে আছি অগ্নিভুক কাল বসন্ত খেয়ে গেছে অর্জুনের বীথি তোমার পায়ের চিহ্ন রেখে গেছে অনিরুদ্ধ দাগ তারাদের গুঁড়ো দিয়ে কবে ভরবে এই শূন্য সিঁথি।   পড়ন্ত রোদের লাল এখনো এ-জানালায় আসে এখনো বাতাসে ভেসে আসে দূর যূথীর সুবাস আর আসে মন খারাপের কিছু দূরাগত গান এভাবেই পথ…

  • সুন্দরের জন্মরহস্য

    নাজমীন মর্তুজা   জন্ম ও মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে সে চোখ জুড়ে নিঃস্বতার অভিব্যক্তি, বৃষ্টির ধারাপাত। হিরণ¥য় রৌদ্রে পুড়ে গেছে নবীন জীবনের কোমলতাটুকু তবু শরীরময় সুন্দরের আর্তনাদ। প্রশ্ন করি কতবার খ- খ- হয়েছো পুরো একটা রাতে?   ভাষাহীন চুপচাপ তার ঠোঁটজোড়া দিনের সূর্য যত দ্রুত নেমে যায় তত গভীর থেকে উঠে আসে কঠিন অন্ধকার।  …

  • বন

    শুভাশিস সিনহা   ভেবেছি বনের মাঝখানে গাছ হয়ে ছলে ভানে ঝড়ে জলে শীতল-শীতল শিহরণে নিজের ভেতর থেকে কোনো এক পরশন টের পাওয়া যাবে, ছুঁতে গিয়ে আঙুলে অনুভূতির মরা-ভাষা পাঠে ভুল করে ভয়ে-ডরে পালানোর প্রেমরাত ভরিয়ে রেখেছে দেহ, মনের কোটরে পুরে রাখা পাখি, গান শেখে নি কখনো, শুধু সুর পেলে বাতাসে বাতাসে ঠোঁটে তার যাতনার শিস,…

  • আলোছায়া

    চঞ্চল শাহরিয়ার   রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণী সুবাতাস বয়ে আনে। আনে ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের রোদমাখা দিন। কিশোরবেলার মায়াময় জলের তরঙ্গ, হুমায়ূন আহমেদ আর সুনীলের গল্প। পৌষের মিষ্টি সকাল।   ট্রেন তুমি লেট করো। আরো একবার দেখে নিই রঙিন চাদরে মোড়া তরুণীর সৌন্দর্যের আলোছায়া।

  • একুশের ভোরবেলা

    একুশের ভোরবেলা

    আজ এই ভোর পাঠ করছে রোদের নামতা

  • আত্মদর্শন

    মাহমুদ কামাল   গাছের শেকড়কে আমি যতটুকু জানি আত্মপরিচয় তারও চেয়ে কম অশ্বত্থ বৃক্ষটি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছে নেই তিন পুরুষ আমার বংশলতিকা তাই শেকড়ের চেয়ে বেশি নয়। পিতা ও প্রপিতামহ এই পরম্পরা এর চেয়ে আর কোনও তথ্যসূত্র নেই। শেকড়ের আছে আমার তো নেই পিতা কিংবা প্রপিতাকে যতটুকু জানি ততটুকু নিজেকে জানি না। কেউ কি জানে?