
February 2024
এই সংখ্যার লেখা
-
সূর্যাস্তের রক্তরাগ
কী করে বলি ব্যর্থ জীবন জন্মেই পেয়েছি মাতার স্নিগ্ধ স্তন্য দু’চোখে দেখেছি শ্যাম সমারোহ চারিদিকে জনারণ্য। গ্রীষ্মে পেয়েছি সুশীতল ছায়া শ্রাবণে পেয়েছি বৃষ্টি যৌবনে দেখেছি প্রেয়সীর মুখ গীতি-সুধাময় দৃষ্টি। আজকে যখন রক্ত ভাটায় নিঃস্ব তখনো দেখি, কী গভীর প্রেমে সজ্জিত এই বিশ্ব। জোয়ারের শেষে তাই তোমার আমার সন্ধি বয়েস খাঁচায় আমরা হবো না বন্দি। সৃষ্টির…
-
যেতে যেতে : দিন যায় রাত্রি যায়
দিন চলে যায়, পায়ে পায়ে রাত্রি আসে স্বাভাবিকভাবে আসে, আসতে হয় আসে নিজস্ব নিয়মে আসে যখন যৌবন ছিল রক্তে শোনা যেত বাঘিনীর ডাক চিতাবাঘ এ কোণে ও কোণে, জঙ্গলে, সাবুই ঘাসের ঝোপে লুকিয়ে থাকতো উত্তুঙ্গ জীবনে ঘাপটি মেরে থাকা মৃত্যুর মতন স্বপ্নের মতন বিশ্বাসের মতো তারা সব ভেসে যাচ্ছে তারা আর দেহ নয়, ছায়া একটা…
-
কলগার্ল
কলগার্ল বুদ্ধকে দিয়েছে তার আজকের দিনের উপার্জন। কারুণিক সঙ্গে-সঙ্গে তাকে দেখালেন সমস্ত ভুবন জুড়ে ব্যাপ্ত এক অনন্তনাগের ফণায় ফণায় জ্যোৎস্না সমবিতরিত হয়ে আছে। অথচ দু-গজ দূরে ওঁৎ পেতে রয়েছে বৈমাত্রেয় ভাই-টাই – যাকে বলে আত্মীয়স্বজন – তাদের নগদ পাওনা লুফে নেবে ব’লে; অনন্তনাগের তুলনায় এরা ছোটখাটো সাপ, এদের ফণায় অন্ধকার টায়টায় হয়েছে বণ্টন। দু-চারজন তবু…
-
বালক, তুমি একদিন ॥ তৃতীয় পাঠ
বালক, তুমি একদিন আমাদের কবি হবে, উড়ে যাবে কালের ফুৎকারে – আমি সেই শিরোনাম ছেপে দিচ্ছি আজকের মেঘাবৃত সংবাদপত্রে। দূরপ্রান্ত বালক, তোমাকে স্বাগত এবং শোকের ভেতরে টানটান আমি তোমার ওষ্ঠের ভেতরে উপস্থিত, তোমার অভিষেকে আমি উপস্থিত। এই ঝকঝকে দুরবিন, ওই প্রজ্বলিত নীলাঞ্চল, এই চোখ, ওই নক্ষত্র, এই বিকাশমান দিন, ওই অস্তমান বিস্তার, এ সকলই একদা…
-
পাথর ও রক্তের বিবাদ
কি আছে অনাস্বাদিত? ঠোঁট রেখে কঠিন শিলায় পাথরের গন্ধ শুঁকি পেতে চাই সৃষ্টির লবণ। গ্রানিটে জিহ্বা লাগে, আলজিহ্বে শ্যাওলার স্বাদ স্বাদ নয়, এ কেবল পাথর ও রক্তের বিবাদ। অভুক্ত কবির মুখে, আলজিহ্বে জমেছে যে পানি এ দিয়ে নরম হয় জগতের প্রকৃতিনিচয়, কেবল অনম্য তুমি। পাথরের চেয়েও পাথর। হাসো বাসো নাশ করো মানুষের সব বরাভয়। ২…
-
সংশয়
রক্ত এবং মাংস জুড়ে তোর কেন এই ভয় ভালো যদি বাসিস নারী কেনরে সংশয় ভালো যদি বাসিস তবে মাতাল হয়ে যা অন্ধ এবং বধির হয়ে অধীর হয়ে যা ভালো যদি বাসিস নারী ঢেউ তুলে যা মনে ভালোবাসা মরণ খেলা খেলবি দুইজনে তুইতো জানিস কেমন ক’রে বাসতে ভালো হয় কেমন ক’রে ঝড়ের মতো বাতাস শুধু বয়…
-
রমিত বসন্তে
আদিতে তুমিই ছিলে অন্তে ছিলে তুমি আকাশ সমুদ্র ছিলে, ছিলে বনভূমি আঁধার আলোর মতো ছিলে গোধূলিতে বিশাল প্রকৃতি জুড়ে বিপুল সংগীতে প্রবল অস্থির ছিলে বাতাসের স্বরে নদীর বিস্তারে আর পাতার মর্মরে অস্থিতে মজ্জায় তুমি ছিলে চিরকাল আমার মাংসের মধ্যে আমার কঙ্কাল চুম্বনে নিমগ্ন একা ছিলে আলিঙ্গনে উন্মত্ত বৃষ্টির গানে শ্রাবণে শ্রাবণে স্তম্ভিত শব্দের মধ্যে ধ্বনিত…
-
একটি কবিতা
এবার একটি কবিতা দিতে একটু দেরি হল। খুব দেরি হয়তো নয়, তবুও তো। আসলে আমার কোনো দোষ নেই। কবিতাটি এসে গিয়েছিল, আশেপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিল। কখনো পাখির পালকের মতো উড়তে উড়তে, কখনো ঝিঁঝির ডাকের মতো ক্রমাগত, কখনো জানলার খড়খড়ির ফাঁকে আলো, কবিতাটি এদিক ওদিক ঘুরপাক খাচ্ছিল। এর মধ্যে কয়েকদিন খুব ঠান্ডা পড়ল, একদিন…
-
প্রেমের চতুর্দশপদী
চঞ্চুতে চঞ্চুতে প্রেম হলে মন্দ নয়। পাখি সব যেমন প্রণয় করে পাখার ঘর্ষণে, পালকের স্পর্শ পেলে শিহরণ ঘটে যায়, তেমনি উড়ালে ভালোবাসা হবে আমাদের। খড়কুটো ঠোঁটে নিয়ে বাঁধব না কেউ ঘর, বাবুই পাখির কারুকাজ হয়ত হবে না। কোকিলের মতো ডিম পেড়ে যাব অন্য কারো ঘরে। পাখিরা জানে না কবে কার বাসে জন্মেছিল! কোথায় নিবাস ছিল…
-
বিব্রত সংলাপ
তুমি বারবার নতুন কিছু শুনতে চাইলে বোল্লে : ‘আমাকে নতুন কিছু শোনাও’ আমি বোল্লাম : ‘অমাবস্যার পুঞ্জপুঞ্জ অন্ধকার একদল কালো মুখোশ-পরা ডাকাতের মতো শিকার করতে চাইছে শাদা খরগোশের মতো কম্পমান চাঁদটাকে’ তুমি বোল্লে : ‘এর কোনো অর্থ নেই!’ আমি আবার বোল্লাম : ‘তুমি কী শোনোনি তিনটে মাছের আক্রমণে নিহত মাছরাঙা প’ড়ে আছে নদীর ওপারে’ তোমার…
-
এই বেলা
তাড়া নেই কোথাও যাওয়ার, অপেক্ষায়ও ব’সে নেই কেউ – বিছানায় রোদের ধমক নির্বিকার পর্দা জানালার। সাদা-কালো ফটো ঝাপসা বড়ো – কালো চুল। বিস্মিত নয়নে শুধু ওড়ে শুভ্র কেশদাম। কাজ নেই, অবসরও নেই বইপত্র নাড়াচাড়া করি, সময়ের ধুলোর আলপনা মুছে রাখি, ফেরে না সময়। মন চায় যেতে যে আড্ডায় হায় নেই শরীরের সায়। চমকে উঠি রিকশায়…
-
উই গট হিম
দু’পাশে রাইফেল ছিল যদি লক্ষ ভেদ করতে হয়, গুলিভর্তি পিস্তলও ছিল যদি আত্মঘাত হয় সহজ উপায়। কিন্তু এ সব তাকে করালো না কিছু – ক’মাস ইঁদুর-গর্তে নির্বাসনে থেকে দাড়ি গজিয়েছে আর ভুলে গেছে কোন লক্ষ্যে বাঁচা। ধন্য আমেরিকা। হিরোশিমা নাগাসাকি ভিয়েতনাম আরও আরও আরও ভয়ংকর সন্ত্রাস পেরিয়ে এখন ইরাকে পৌঁছে শিখেছ অনেক।…
