এই সংখ্যার লেখা

  • আমাদের চার বন্ধুর গল্প

    বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ঢাকা, ২০১০-এর শেষদিক। দুই পাপেভরা ইউরোপ এবং জাঁকালো আমেরিকার মধ্যে আমার চলাফেরা। আবার জাঁকালো ভারত এবং পাপেভরা বাংলাদেশের মধ্যে আমার আনাগোনা। একসময় আমরা সাহিত্য ও সাংবাদিকতা নিয়ে আমেরিকার কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি। আমরা : ঢাকার আমি, মুম্বাইয়ের গৌরী, প্যারিসের সুজান এবং আমেরিকার অ্যাবি। আমাদের সেইসব দিন ছিল উদ্দাম হাসির, ক্ষণিক প্রেমে পড়ার,…

  • প্রাকৃতিক

    সমরেশ মজুমদার পঁচাত্তরে পড়তে আর তিনমাস; কিন্তু স্বপ্নেন্দুর মাথার  একটি চুলও সাদা হয়নি। দাড়ি কামাবার সময় আয়নার সামনে বসে নিজেকে লক্ষ্য করেন তিনি। দুদিন দাড়ি না কামালে (সেটা খুব কম হয়) গালে সাদা ছোপ লাগে। কিন্তু না জুলপি, না কানের ওপাশে একটি রুপোলি চুল দেখতে পান না। একদা বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে ঠেস দেওয়া প্রশ্ন…

  • কানার হাটবাজার

    সৈয়দ শামসুল হক কিছুদিন থেকে এক কিশোর আমাদের সাথ লয়েছে। পাছ ছাড়ালেও সে পাছ ছাড়ে না। আমরা যেখানে যাই, আমরাই তো যাই, সেও যে সাথে আছে ঠিকই ঠিক পাই, পাশ ঘুরলেই দেখি তাকে। মাথায় নারীর মতো লম্বা কেশ, লালিয়া তার রঙ, বুঝি তেল পড়ে নাই বহুদিন, সময়তে বটের ঝুরি ছিঁড়ে তাই দিয়ে বেঁধে কেশ পিঠের…

  • গল্প হত্যার লঘু-গুরু

    মামুন হুসাইন একদিন খুব প্রত্যুষে ঘণ্টা বাজছিল – ধারণা হলো এখানে নিশ্চয় কোনো গ্রাম আছে এবং ঘণ্টা বাজিয়ে তারা এখন প্রার্থনার ভেতর অস্তিত্ব আবিষ্কার করার কাজে ধ্যানমগ্ন। আমি ভেবেছি – আমার কি তবে কখনো ভয় হয়? যেমন – কেউ জাদু করল, অথবা জোর করে পামিস্ট্রি করতে চাইছে, অথবা নিখোঁজ গুলি উড়ে এলো, অথবা রাষ্ট্রীয় পুরস্কার…

  • হুরি

    বদরুন নাহার জরিনা যেন ঝড়ে উপড়ানো গাছ! কালবৈশাখির পর উঠান থেকে ভেঙেপড়া গাছ যেমন টেনে সরাতে হয়, তেমনি তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে আক্কাস আলী। যদিও তার এক বাহুতে আটকে আছে শিশুটি, আর তা যেন জন্মান্তর ধরে আটকেই আছে। সকালের শান্ত শহর, আজ যেন আরো বেশি নীরবতায় ডুবে যাচ্ছে তাদের প্রস্থানে। অথচ গতকাল প্রচন্ড ঝড়ের বেগেই…

  • উজানি মাছেদের বউজীবন

    পাপড়ি রহমান বাদলার মরশুম এলেই ঘোড়াউত্রার জলে যেন কী এক রহস্য খেলে যায়! এমনিতেই বছর-কাবারি তার ভাব-সাবের তেমন অদল-বদল নাই। আর দশটা নদ-নদী যেভাবে চলে-ফিরে, ঘাড় ঘুরিয়ে, কোমর বাঁকিয়ে অন্যপথে ধায় – ঘোড়াউত্রাও তেমনি চলে। সারা বৎসর তার তেমন চেত-বেধ নাই, শুধু বাদলার মরশুম এলেই ভিন্ন কথা। তখন আষাঢ়ে-জলধর আসমানে সামান্য উড়লো কী, তার ছায়া…

  • এই চরাচর

    প্রশান্ত মৃধা এইখানে চরাচর আসিয়া মিশিয়া গিয়াছে! সত্যি! একেবারে সত্যি কথা! যে-লোকটি অথবা যে-ছেলেটি কবির ঢঙে এই কথা বলে পরের বাক্যটির জন্যে একটু থামল, সে সত্যি কথাই বলেছে। শহরের ভেতরে এইটুকু জায়গা, কিছুদিন আগে দেওয়া নাম স্বাধীনতা উদ্যান। কার কার স্বাধীনতা এখানে রচিত কিংবা খর্ব হয় সেই হিসেব তোলা থাক। কারণ, এইখানে চরাচর এসে মিশেছে,…

  • অবেলার কামিনী

    ফিউরি খোন্দকার ‘পিঠ চুলকানোর জন্যও একজন মানুষ লাগে’, টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে একটু ম্লান হেসে বললো মুনা। তার কণ্ঠস্বর কেমন বিষাদগ্রস্ত মনে হলো জহিরের কাছে। এখন প্রায় সকাল হয়ে গেছে। দেয়ালঘড়িতে সাড়ে চারটা। সাধারণত তারা এতো সময় নিয়ে কথা বলে না। দুজনেরই সকালবেলা অফিস আছে। রাতের অন্ধকার আস্তে আস্তে ধোঁয়াটে হয়ে আসছে। জানালা দিয়ে শীতল…

  • এক মিনিটের নীরবতা

    নলিনী বেরা স্নানাহারের পূর্বেই আমার শাকান্ন ভোজন হয়ে গিয়েছিল, তাই মধ্যাহ্ন-ভোজনে অভিরুচি ছিল না। কিন্তু একে ‘মহিমারঞ্জন’, তার ওপর ‘দাদা-বউদির হোটেল’ – অগত্যা যেতেই হলো। হরিদ্বার-ভ্রমণার্থীদের মুখে এতো শুনেছি ‘দাদা-বউদির হোটেল’ ‘মাসির হোটেল’ না ‘মাসি-পিসির হোটেল’-এর নাম যে, ‘বন্যানি চ তথান্যানি স্বাহারাণি’, আহার করি আর নাই করি – যেতেই হচ্ছে আমাকে! এছাড়াও তো আছে ‘গৌরীশঙ্কর…

  • বুনো বিলাস

    হামিদ কায়সার বাসর রাতেই হোঁচটটা খেয়েছিল শায়লা, জগলুলের মধ্যে অস্বাভাবিকত্বের একটা ক্ষীণ স্ফুরণ চোখে পড়েছিল ওর। কিন্তু এটা যে এতোটা প্রকট অথবা একসময় এতো সমস্যার কারণ হয়ে উঠবে, ধারণা ছিল না সামান্যও। ভেবেছিল এ বুঝি নিছক খেয়াল। বাসরঘরে ওদের দুজনকে রেখে সবাই যখন বেরিয়ে গেল, ও প্রথামতো পা ছুঁয়ে সালাম করে স্বামীর সামনে দাঁড়াতেই, জগলুল…

  • শহরের পাতাঝরা বিকেলে

    ইমতিয়ার শামীম একবার এক বিকেলবেলায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে এই শহরে, তারপর তা থেমে গিয়ে হালকা প্রসন্ন রোদ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সে-রোদের ওপর এমন এক ঝোড়ো হাওয়া পাক খেয়ে চলে যে, পাতাঝরা ফাল্গুনের বিষণ্ণ আকুলতা পথে পথে বলকে উঠতে থাকে। মনে হয় এখনই রাস্তায় নেমে আসবে এলোমেলো কিশোরের দল, যারা ঘুরে ঘুরে দেখে নেবে কোথায় কোন…

  • এক জীবন বহু গল্প

    মাসুদা ভাট্টি ওরা দুজনে হাঁটেন পার্কে। এখানেই পরিচয়। পরিচয়-পর্বটা খুব মজার। একদিন ভোরে, বেশ ভোরই বলতে হবে, তখনো কেউ আসেনি পার্কে। দু-একজন সবে আসতে শুরু করেছেন কি করেননি। রেবেকা ভাবছিলেন, এতো ভোরে আসাটা বোধহয় ঠিক হয়নি। যদিও তিনি ভয় পাচ্ছিলেন বলে মনে হচ্ছিলো না। এমনিই চারদিকে তাকাচ্ছিলেন শুধু। আর কাওসার ভাবছিলেন, যাক, আজকে একটু দ্রুত…