
April 2016
এই সংখ্যার লেখা
-
ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে দেখা বাংলাদেশের স্বাধীনতা
খায়রুল আনাম. এম. এম [এ-রচনা ওই সময়কার আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ব্যাপার। এর কোনো ঐতিহাসিক মূল্য সম্ভবত নেই। এই স্মৃতিকথা লিখতে গিয়ে আমার নিজের কতখানি স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছে তার একটা পরিমাপ হয়ে যাবে, এই ভরসা] ১৯৭০ সালের শেষ দিক। সারা পাকিস্তানে গণভোট হয়ে গেছে ৭ ডিসেম্বরে। জাতীয়ভাবে শেখ মুজিব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেলেও ভুট্টো সাহেব কিছুতেই ছাড়…
-
কানাডিয়ান কবি ও ঔপন্যাসিক মার্গারেট অ্যাটউড
কামরুল ইসলাম I think the main thing is : Just do it. Plunge in! Being Canadian, I go swimming in icy cold lakes, and there is always that dithering moment. ‘Am I really going to do this? Won’t it hurt?’ And at some point you just have to flop in there and scream. Once you’re…
-
সূর্যজন্মের দিকে
অলোক সেন এখন, সূর্যজন্মের আগে চাপচাপ অন্ধকার ঢেকে বসেছে টবের গাছে, বারান্দায়। নক্ষত্রসভার সদস্য হতে চায় – এই আবেদনপত্রসহ একাকী অমলিন মৃত্যুর দরজায় কড়া নাড়ে আর হাই তোলে। জীবনের বাড়ি যাবে শরবত খেতে তোমাকে তা কি করে বলে, এবার ভূত ও ভবিষ্যতে কড়া নাড় কবি। বিদায়, সূর্যজন্মের দিকে – সে বলেছে…
-
মমি ও মর্মরিত ধ্বনি
রাহমান ওয়াহিদ শিল্পী, তুমি দারম্নণ আঁকো, নিখুঁত পরিপক্বতায়। মুজিবের ধূমায়িত পাইপের দ্রোহী উদ্গিরণ নূর হোসেনের অবিস্মরণীয় খোলা বুক বিস্ফোরণ এমনকি মোনালিসা হাসির অবাক সিম্ফনিও তোমার রংতুলিতে নিখুঁত হয়ে ওঠে, যেন তুমিই সদ্য জেগে ওঠা পিকাসো, অনন্য কাইয়ুম। সেই তোমার রংতুলিটা এমন বিবর্ণ, ডিমশাদা কেন? আমার মুখের ফ্রিকোয়েন্ট বিবর্তনে বিব্রত কি তুমি? ধরতেই পারছো…
-
সবুজ কথা
দিলীপ কির্ত্তুনিয়া তুমি সবুজ না দেখে পারবে না। তুমি সবুজ না থেকেও পারবে না। সবুজ তোমাকে দেখতেই হবে এত গাছপালার সামনে। সবুজ তোমাকে থাকতেও হবে তাই বুঝি! এরপরেও কথা থেকে যায় অনেক – এত সবুজ সামনে সমুদ্রের মতো সবুজকে দেখি না তবু। বিষাদের কালো ছায়া মনটাকে গেলে। মাতাল চাতাল সবুজ হারিয়ে যায় কিছু সময়ের…
-
দুটি কবিতা
হেনরী স্বপন বাউল বাড়ির দাদু কবিরাজ বাউল বাড়ির পাশে পলস্নবিত কাননে কুসুম গাছ, সারি-সারি বাহারি পতঙ্গ ছড়াচ্ছে পরাগ – অপরাজিতার চেয়ে গাঢ়… আরো লাল ক্যামেলিয়া ফুটে অবাক হয়ে উঠলে আজ, বিছানায় সেই ফুলতোলা দিদার চাদরে ঘুমিয়ে রয়েছে দাদু কবিরাজ। বাউল বাড়ির ফটো কাগজিলেবুর গন্ধে ফিরিয়ে আনলে বোলতার গায়ে পরা…
-
শ্রাবণাতিরেক
মলয় ভট্টাচার্য এক এ মাহ শ্রাবণ আসি কলিজা জুড়াল গলায় পরাল ফুলমালা সেসবই এবার সিন্দুকে তুলে রাখি নিন্দুকে যা বলে বলুক। যত বলাবলি সবই ধূলিতে লুটায় বৃষ্টি শুকায়, দৃষ্টি হয়ে আসে ভঙ্গিভারে নত রাখাল বালক ঝরাপালক কুড়ায় দড়ি ছিঁড়ে ওই তার শহর পালাল। এ মাহ শ্রাবণ মুখ ঘরকে ফিরাল পুড়িল বিরহে পিপীলিকা…
-
স্বপ্নের ভেতর
সরকার মাসুদ স্বপ্নের ভেতর মূল্যবান কিছু একটা খোয়া যায় বালাজন নদীর ওদিকে শীর্ণ-শীর্ণ জিগা গাছ স্বপ্নের ভেতর তার কাঁচা পাতা ঝরে যায়! কেউ একজন সারারাত বাথরম্নমে পানি নাড়ে ঘুমের ভেতর পাগলের মতো হাঁটে কাচের বাক্সে লাল-নীল ছোট মাছ সাঁতরায় পাতাঝরার ক্ষতি আমি টের পাই হাড়ে-হাড়ে। সব তারা ঘুমানোর পর রাত একটা বিশাল…
-
যাত্রা
সাজেদুল আউয়াল আর কিছুই চাই না – ওই সড়কটি ধরে হেঁটে যেতে চাই কেবল। পাশে থাকুক শাপলা-ফোটা জলাশয়, দুধকলমির ধাম, কুঞ্জলতার বন; দূরে থাক গৃহস্থের ঘর-গেরস্থালি, পাথরকুচির ফুল, আকাশে ভাসুক বৃষ্টিবতী মেঘ। কলাগাছের পাতা নড়ুক বাতাসে। আরো দূরে ধানক্ষেতে নতমুখের কৃষক থাকুক নিড়ানি হাতে। গোয়ালঘরে যেতে-যেতে কোনো এক রমণী ঘোমটা সরিয়ে কিছুটা দেখে…
-
আমার সাম্পান-যাত্রা
জলধি হালদার যেখানে দেখা হোক, মেয়েটি আমাকে চুমু দেয়। যে-কোনো আবহাওয়ায়, স্বপ্নের খড়কুটোর ভেতর এই নড়বড়ে জীবনের কিচিরমিচির, যে-কোনো মূর্ছনায় সে ডানা মেলে আমার বিড়ি খাওয়া ঠোঁটের ওপর। যেখানে এক মুহূর্তের দেখা – ব্যসত্ম শহরের কার্নিশে যে-কোনো গ্রামের এঁদো পুকুরের পাশে ইস্, যেদিন সমসত্ম শিথেন জুড়ে ঘোলাটে হয়ে যাই তখনো আহ্লাদে…
-
শীতঘুম
তুষার কবির শীতের কোরক খোলো – তোরঙ্গের নিচে আছে ওম আরো আছে খড়কুটো; দেশলাই জ্বেলে দাও রাতে কুঠুরির স্বর শোনো – বজরায় নিভে যায় মোম বাইজির ভাঁজ খোলে, জ্বলে ওঠে কুমুদ মৌতাতে। পুরনো পিয়ন হাঁটে ধূলিখামে কিশোরীর ঘুম চিঠির গহিনে আছে অক্ষরের স্বাতিতারা স্বর – কিছুটা তোমার কথা আরো শোনো জলের মাতম তবে…
