পাঠকের চিঠি

  • চলচ্চিত্রকার তরুণ মজুমদার প্রসঙ্গে

    কালি ও কলম, শ্রাবণ ১৪২৬, ষোড়শ বর্ষ ষষ্ঠ সংখ্যায় ‘মুখোমুখি তরুণ মজুমদার’ শীর্ষক লেখাটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার তরুণ মজুমদারকে জানার একটি প্রয়াস বলে ধারণা করি। সুশীল সাহা ও শৌভিক মুখোপাধ্যায়ের নেওয়া সাক্ষাৎকারভিত্তিক লেখাটি নিঃসন্দেহে আমার মতো অনেক পাঠকের, যাঁরা তরুণ মজুমদার সম্পর্কে অজ্ঞ কিন্তু সিনেমাভক্ত, তাঁদের কাছে একজন গুণী চলচ্চিত্র-পরিচালকের ভূত-বর্তমান হালচাল উন্মুক্ত করেছে।…

  • নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার অনুবাদ

    পাঠগত সংখ্যা কালি ও কলমে (শ্রাবণ ১৪২৬) অধ্যাপিকা সুমিতা চক্রবর্তীর ‘‘নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ অনুবাদকদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন’’ প্রবন্ধটির জন্য ধন্যবাদ। প্রবন্ধকার লক্ষ করেছেন, সরকারি নথিতে ‘বিদ্রোহী’র ইংরেজিতে গদ্যানুবাদে তরজমাকারের নামের উল্লেখ নেই। শ্রীশিশির করের আবিষ্কৃত নথিটি ছাড়াও আমি আরেকটি নথি খুঁজে পেয়েছিলাম পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহাফেজখানায়। ওই নথিতে ‘‘বিদ্রোহী’’; ‘‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’’; ‘‘ধীবরের গান’’ এবং ‘‘ইন্দ্র পতনে’’র…

  • পাঠকের চিঠি

    অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্ত কালি ও কলমে অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্ত : শতবার্ষিকী শ্রদ্ধার্ঘ্য নামে স্মারকগ্রন্থটির ওপর অনবদ্য একটি রচনার জন্য সনৎকুমার সাহাকে ধন্যবাদ। প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ অশোক মিত্রের প্রকাশনায় কলকাতা থেকে ছাপানো এই বইটি, সত্যিকথা বলতে গেলে, পুস্তকপ্রেমিকদের কাছে একটি সংগ্রহের বস্তু (collector’s item) বলে বিবেচিত হতে পারে। অমিয়বাবুর বেশ কয়েকজন ছাত্রছাত্রী, পরিবারের সদস্য, অনুরাগী এবং অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্তের নিজের কয়েকটি রচনা-সমৃদ্ধ এই বইটি সম্পর্কে বেশ বড় এবং বিশদ একটি আলোচনা করে সনৎবাবু সকলের কৃতজ্ঞতা অর্জন করেছেন। সনৎকুমার সাহার লেখাটি পড়লেই বাংলাদেশের তথা সমগ্র উপমহাদেশের অর্থনীতিশাস্ত্রের গুরুস্থানীয় এক মহত্তম শিক্ষক সম্পর্কে সম্যক ধারণা হবে। এই পত্রলেখকের সৌভাগ্য হয়েছিল এই মহৎ শিক্ষক এবং অসাধারণ মানুষটিকে কয়েকদিনের জন্যে বেশ কাছে থেকে দেখার।  সেটা সম্ভবত ১৯৭৪ সাল। আমি তখন বিশ্ববিদ্যালয়-মঞ্জুরি কমিশনের সচিব। একদিন চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, সংক্ষেপে ‘ম্যাক’ স্যার, আমাকে ডেকে বললেন, ‘বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে অধ্যাপক অমিয় দাশগুপ্ত ঢাকায় আসছেন কয়েকদিনের জন্য। আমরা গ্র্যান্ট্স কমিশন থেকে ওঁর দেখাশোনা করব। আপনি রাজ্জাক স্যারের কাছে চলে যান, স্যারের কাছ থেকে কী করতে হবে সব জেনে আসুন।’ বলাবাহুল্য, আমি অর্থনীতির ছাত্র ছিলাম না এবং তখনো অমিয়বাবুর নাম শুনিনি। রাজ্জাক স্যারের কাছে গেলাম। তিনি যেভাবে অধ্যাপক অমিয়কুমার দাশগুপ্তের বর্ণনা দিলেন তাতে অবাক হয়ে গেলাম। এতদিন আমি ‘স্যার’কেই গুরুদের গুরু বলে জানতাম। কিন্তু সেদিন জানতে পারলাম ‘স্যারে’রও একজন স্যার আছেন। এর কয়েকদিন পর অমিয়বাবু সপরিবারে এলেন এবং মঞ্জুরি কমিশনের অতিথি ভবনে না থেকে রাজ্জাক স্যারের বাসাতেই উঠলেন। আমাকে মাঝে মধ্যে একাজে-সেকাজে ফুলার রোডের সেই বাড়িতে যেতে হতো। সেখানে এই একদা-গুরুশিষ্য এবং পরবর্তীকালে একদা-সহকর্মীর মধ্যে যে-অপূর্ব সম্পর্ক দেখেছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। একদিন দুপুরে স্যার তাঁদের বাড়িতে আমাকে তাঁদের সঙ্গে খেতে ডেকেছিলেন। আরো অনেকে ছিলেন। ওঁরা যেসব কথাবার্তা বলছিলেন মুগ্ধ হয়ে শোনা ছাড়া আমার কিছু করার ছিল না। মনে আছে ‘স্যার’ নিজে ঢাকার বাজার থেকে এতবড় কৈ মাছ এনেছিলেন, যা এর আগে আমি কোনোদিন খাওয়া তো দূরের কথা, দেখিইনি। ওঁরা চলে যাওয়ার পর স্যারের কাছে অমিয়বাবুর সম্বন্ধে আরো অনেক গল্প শুনেছি। দিনে দিনে অমিয়বাবু সম্পর্কে আমার কৌতূহল বেড়েছে। অবশেষে অশোক মিত্রের আপিলা চাপিলা পড়ে এই মহান শিক্ষক সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানার সৌভাগ্য হয়েছে। জানতে পেরেছি যে, অর্থনীতির এই বিশিষ্ট শিক্ষককে কীভাবে কলকাতার বিদ্যোৎসাহী মহলে, বিশেষ করে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে, প্রায় অবহেলাই করা হয়েছে। অবাক হয়ে যাই যখন দেখি যে, কলকাতা থেকে প্রকাশিত সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান বইটিতে অমিয়বাবু সম্পর্কে (সংসদ বাঙালি অভিধান, দ্বিতীয় খণ্ড, জানুয়ারি ১৯৯৬) যে-ভুক্তিটি আছে তাতে তিনি পৃথিবীর কোন কোন জায়গায় পড়িয়েছেন, গবেষণা করেছেন এবং কাজ করেছেন সব সন-তারিখসহ দেওয়া আছে। শুধু নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম এবং তিনি যে ১৯২৬ থেকে ৪৬ সাল পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এ-বিষয়ে বিন্দুমাত্র উল্লেখ। সনৎবাবুর লেখাটিতে ওই বইয়ের বিভিন্ন লেখকের স্মৃতিচারণ থেকে এই একনিষ্ঠ শিক্ষক এবং অত্যন্ত বড়মাপের অর্থনীতিবিদের ব্যক্তিগত জীবন এবং অর্থনীতিচর্চার অনেক কিছুই জানতে পারলাম।  সবগুলো লেখাই তথ্য-সমৃদ্ধ। তবে   অম্লান দত্ত, এস আর সেন, অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায় এবং জামাতা আই জি প্যাটেল Ñ এঁদের লেখায় একজন অর্থনীতিবিদের    তত্ত্বচিন্তাগুলোও কীভাবে ধীরে ধীরে তাঁর পড়াশোনা, গবেষণা এবং শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে তা বেশ ভালোভাবেই বোঝাগিয়েছে। যদিও পুত্র পার্থ দাশগুপ্ত পিতা সম্পর্কে লিখেছেন, ‘ঞযব ঃবধপযবৎ রহ যরস ড়িহ ড়াবৎ ঃযব ংপরবহঃরংঃ. টহষরশব ধহু ড়ঃযবৎ ংপরবহঃরংঃ ও যধাব শহড়হি, বাবহ ঢ়ৎড়ভবংংরড়হধষষু যব ৎিড়ঃব ঃড় বীঢ়ষধরহ, হড়ঃ ঃড় পৎবধঃব.’ তবু অম্লান দত্ত, এস আর সেন এবং অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের লেখাগুলো পড়ে মনে হয়েছে ছাত্রদের মধ্যে অর্থনীতির নানান তত্ত্ব ব্যাখ্যা করার মধ্য দিয়ে অমিয়কুমার দাশগুপ্ত বোধহয় কিছু তত্ত্বকে নবরূপে সৃষ্টিও করে গেছেন। যদিও নিজে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ‘কবুহবংরধহ ঊপড়হড়সরপং ধহফ টহফবৎফবাবষড়ঢ়বফ ঈড়ঁহঃৎরবং’ (বক্তৃতা, লক্ষেèৗ বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৪৯ এবং পরে ইকনমিক উইকলিতে ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত) লেখাটির জন্য কোনো বিশেষ কৃতিত্ব দাবি করেননি, তবু ওই লেখাটি যে শুধুমাত্র রিকার্ডোর তত্ত্বের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ তা বিশ্বাস করা কঠিন। মনে হয়, নোবেল কমিটিও তা মানেনি। তা নাহলে আর্থার লুইসকে ১৯৭৯ সালে প্রায় একই তত্ত্বের জন্য, বোধহয়,…

  • পাঠকের চিঠি

    উত্তর-আধুনিকতা – একটি অন্তঃসারশূন্য আলোচিত বিষয় সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে ধন্যবাদ কালি ও কলমের আগস্ট ২০০৪ সংখ্যায় একটি বিশাল প্রবন্ধে ‘উত্তর-আধুনিকতা’ সম্বন্ধে যথাসাধ্য আলোকপাত করার জন্য। একটি গুরুত্বহীন বিষয় যখন গুরুত্ব পায় এবং সেটি সম্পর্কে যখন নানারকম আলোচনা-সমালোচনা হতে থাকে, তখন সেটি স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কিত হয়ে থাকে। উত্তর আধুনিকতা-বিষয়টি ঠিক সে-রকম একটি বিতর্কিত বিষয়। শুধু বিতর্কিতই নয়,…

  • নবীন ও প্রবীণ কবিদের মেলবন্ধন করুন

    সম্প্রতি কালি ও কলম পত্রিকাটি হাতে পেলাম। পত্রিকাটি পড়ে আমার খুব ভালো লাগল, আর সেই সঙ্গে এ-ও অনুভব করলাম যে, পত্রিকাটির আখরে আখরে মননশীলতার ছাপ অত্যন্ত সুস্পষ্ট। বিশেষত আপনাদের কবিতা-বিভাগটি এককথায় অনবদ্য। কালি ও কলম পত্রিকার চতুর্থ সংখ্যায় প্রকাশিত সুধী জাহিদুল হকের ‘কিছু পঙ্ক্তি জুড়ে যে যাপন’ কবিতাটি আমাকে সত্যিই মুগ্ধ করেছে, এছাড়া অন্যান্য কবিতাও…

  • নতুন চেতনার আলোকবর্তিকা

    ভয় হয়, না জানি থেমে যায় এই দুর্গম পরিবেশে কালি ও কলমের পথচলা। আমাদের এই দেশটিতে ভালো জিনিসের জন্যে খুব বেশি সময় বরাদ্দ থাকে না। সেই কবে একে একে বন্ধ হয়ে গেছে সমকাল, সুন্দরম, শৈলী সাহিত্যপত্রিকাগুলো। সাহিত্যরস-আস্বাদনে, গবেষণায় অবশেষে কলকাতার দেশ পত্রিকার শরণাপন্ন হতেই হয়। দেশ পড়তে গিয়েই চমকে ওঠা। দেশ পত্রিকার পাতায় বাংলাদেশের কালি…

  • ‘উচ্চস্তরে বাংলাভাষা প্রচলনের চালচিত্রে’র সংশোধন

    কালি ও কলম সাহিত্যপত্রিকার পঞ্চম     সংখ্যায় প্রকাশিত আবুল আহসান চৌধুরীর ‘উচ্চস্তরে বাংলাভাষা প্রচলনের চালচিত্র’ শীর্ষক সুচিন্তিত প্রবন্ধটি একটি চমৎকার প্রয়াস। উচ্চস্তরে বাংলাভাষা প্রচলনের প্রশ্নে সাংবিধানিক স্বীকৃতির ব্যর্থতা, আমাদের    আন্তরিকতার দৈন্যতা, বাংলা একাডেমীসহ বিভিন্ন প্রকাশনীর মৌলিক, অনুবাদ, পাঠ্য ও পাঠ্যসহায়ক পুস্তক-প্রকাশনায় অপ্রতুলতা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যবসায়িক মনোবৃত্তির পাশাপাশি ভাষা-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর যে-আলোকপাত হয়েছে এই প্রবন্ধে,…

  • প্রসঙ্গ : পিল

    ‘চিকিৎসা নয় এটি একটি নারী অধিকার’ – বছর কয়েক আগেও এইচ.আর.টি বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির বিজ্ঞাপনে একথা ব্যবহৃত হতো। দুনিয়াজুড়ে মেনোপজ হয়ে যাওয়া মধ্যবয়সী নারীরা মুড়ি-মুড়কির মতো এই অধিকার কিছুদিন গিলে খাবার পর বলা হলো যে, দুটি বড় গবেষণায় হরমোন থেরাপিতে উপকারের চাইতে ঝুঁকি বেশি প্রমাণিত হওয়ায় সুস্পষ্ট প্রয়োজন ব্যতিরেকে মহিলাদের হরমোন ব্যবস্থাপত্র দেওয়া উচিত…

  • ‘পল্লীবর্ষা’ কি মাত্রাবৃত্তে না অক্ষরবৃত্তে

    কালি ও কলম প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যা ও দ্বিতীয় সংখ্যা পড়লাম। এর আগে এত উন্নতমানের সাহিত্য-শিল্প-সংস্কৃতি-বিষয়ক পত্রিকা চোখে পড়েনি। অনেকদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। আমাদের দেশে এ-ধরনের পত্রিকা দীর্ঘায়ু হয় না, তাই কালি ও কলম অন্তত যৌবনপ্রাপ্ত হবে, এ-আশ্বাস সত্যিই আশান্বিত করেছে। চমৎকার সব লেখা। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছাড়া এত সমৃদ্ধ পত্রিকা প্রকাশ করা অসম্ভব, প্রথম সংখ্যা…

  • পাঠকের চিঠি নিঃসঙ্গ ‘মাতাদর’ : পাবলো নেরুদা

    মেধাবৈকল্যের মহাষণ্ড যখন এই বাংলার সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখন জ্ঞান, রুচি, শুভবোধ ও পরিশীলনের লুপ্তপ্রায় ক্ষেত্রটিও নিশ্চিহ্ন হবার নিশ্চিত পরিণতির দিকে ধাবমান – এমত আশঙ্কায় যে-কেউ শঙ্কিত হয়ে উঠতেই পারেন। ভাবতে পারেন, ‘পাথরের মতো একা বসে আছি, চোখে আমার ক্রোধমিশ্রিত বিস্ময়, মুখে গ্লানিবোধের মালিন্য, ঠোঁটে ঘৃণার কুঞ্চন এবং ললাটে শঙ্কার ভাঁজ! কী করবো এখন আমি!’…

  • কালি ও কলম দীর্ঘজীবী হোক

    কালি ও কলমের প্রথম সংখ্যাটি পড়ে এক কথায় মনে হলো ‘সমৃদ্ধ’ একটি সাহিত্য পত্রিকা। শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতির প্রায় প্রতিটি শাখার প্রতিনিধিত্বমূলক রচনা রয়েছে এতে। একমাত্র অপূর্ণতা ‘চলচ্চিত্র’ বিষয়ক লেখার অনুপস্থিতি। ভবিষ্যতে এই ঘাটতি কালি ও কলম কাটিয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছি। ভাষা-আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে ‘একুশে’ নিয়ে একাধিক রচনা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যময় করে তুলেছে বর্তমান সংখ্যাকে। প্রচারবিমুখ…