বুলবন ওসমান
-

বাঙালি সংস্কৃতির রূপান্তর
মহাভারতেও আমরা বাঙালি জাতির উল্লেখ পাই। তাই সহজেই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে, বাঙালির জাতিসত্তা কম করে হলেও পাঁচ হাজার বছরের। আজকে যুক্ত-বাংলায় আমরা যেসব ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী দেখি যেমন, সাঁওতাল, ওঁরাও, মুণ্ডা, গারো, হাজং, কোচ, রাজবংশী এবং দক্ষিণ-পূর্বের চাকমা, মগ, মুরং, বম ইত্যাদি এরা এই অঞ্চলের বাসিন্দা। তবে দক্ষিণের নৃগোষ্ঠীসমূহের স্থানান্তর তত প্রাচীন নয়। প্রাচীন বাংলায় যে-কটি…
-

জগৎ জুড়ে প্রাণের মেলা
হাতেখড়ির পালা একবারে তো আর শেষ হয় না। পড়ে থাকে দ্বিতীয় অধ্যায়। সেটি গণিতের জগৎ। আমরা সবাই দুটি মাত্রায় সীমাবদ্ধ। এক, ভাষা – দুই, গণিত। অ আ শেখার পর আসে রাশি শিক্ষার পালা। তো বর্ণপরিচয় শেখার পর শুরু হলো গণিত পাঠ। এক থেকে দশ পর্যন্ত লেখা চলল। এই প্রথম সিঁড়ি ভাঙার পর এগারো থেকে কুড়ি।…
-

তালগাছ
তালজ্ঞান না থাকলে সংগীতজগতে জায়গা পাওয়া মুশকিল। সুর-লয়-তাল সংগীতের কাঠামো। গান-বাজনা পরে। অনেকে জন্মলগ্ন থেকে এগুলো পেয়ে থাকে। এমন ভাগ্যবান না হলে শিখতে হয়। গুরু ধরে। হতে পারে মা-বাবা বা পরিবারের কেউ। তাছাড়া গুরুমশাই। সংগীতেরও আছে হাতেখড়ি। এখানে হাতেখড়ি কণ্ঠ ও যন্ত্রসহযোগে। আর পেছনে থাকে তাল-যন্ত্রটি। যাকে আমরা বাঁয়া-তবলা, মৃদঙ্গ, খঞ্জনি, করতাল, ঢোল ইত্যাদি বলে…
-

হাতেখড়ি
সবকিছুর একটা শুরু আছে। যেমন তার সঙ্গে শেষও। একমাত্র সময় কোথায় গিয়ে সমাপ্ত হবে কেউ বলতে পারে না। আমরা যেমন মহাশূন্যে হাঁটছি, তেমনি হাঁটছি সময়ের হাত ধরে। হাঁটি হাঁটি পা পা … শুরু হয় মা-বাবার হাত পাকড়াও করে। দৌড়ে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। এটা একটা খেলার মতো। তবে হারজিত নেই। তেমনি লেখাপড়ার শুরুতে অক্ষর চেনা ও…
-

হারিয়ে ফেলেছি পরশপাথর
ছোটবেলায় রবীন্দ্রনাথের ‘পরশপাথর’ কবিতা পড়ে ক্ষ্যাপা লোকটির জন্যে বড় কষ্ট হয়েছিল। শুধু মনে হয়, আহা যদি একটু খেয়াল করত! ফেলে যাওয়া রাস্তায় আবার পরিক্রম করতে হতো না। পৃথিবীতে এরকম অনেক ধরনের ক্ষ্যাপা আছে। কেউ শিল্পচর্চা করে, কেউ করে রাজনীতি … এমনি হাজার ধারা। এই বাংলায় তেমন ক্ষ্যপার অভাব নেই। রাজা রামমোহন থেকে শুরু করে ঈশ্বরচন্দ্র…
-

নিভে গেল সাঁঝবাতি
কলেজ স্কোয়ার। কলকাতা। গোত্রহীন এক পান্থনিবাস। আহার-ব্যবস্থাবিহীন। অনুজ-কবি মানিকের তবু এই ঠাঁই পছন্দের। কারণটা ধরে ফজল খুশি। কর্মীদের আহারে শামিল হলে ঘরোয়া খাবার মেলে। থালি সত্তর টাকা। খুব একটা বেশি কী? খাবারে আমিষ ও সবজির অনুপাত প্রায় হাসপাতাল-ব্যবস্থাপনার মতো। সবচেয়ে ভালো ডিমের ব্যঞ্জন। একজোড়া ডিম। এ কি রাজকীয় থেকে কিছু কম হলো! অনেকদিন ফজল একটা…
-

অনুজ হাসনাতকে
২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৭ ১৭ই নভেম্বর ২০২০ সেগুনবাগিচা, ঢাকা প্রিয় হাসনাত চিঠিটা তো খোলাই থাকবে। ভদ্রতার মোড়ক ব্যবহার করতে হবে না। কালি ও কলমের মেরুদণ্ড ছিলে তুমি। কয়েক মাস আগে গেল পত্রিকার প্রধান মস্তিষ্ক অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। আমার তো এখন ভয় হচ্ছে সিরিয়ালি সার দিয়ে নামছে। প্রার্থনা – এবার যেন বাকিরা রেহাই পায়। এত বড় উৎসর্গের পর…
-

আনিসভাই
১৯৬১ সাল। ঢাকায় তখন রবীন্দ্রবার্ষিকী পালনের জোর তোড়জোড়। দুটো কারণ। এক. শতবার্ষিকী। দুই. পাকিস্তানি সরকারের রবীন্দ্রচর্চার ওপর নিষেধাজ্ঞা। সুতরাং আমাদের জিদ ষোলো আনা ছাড়িয়ে। মানব না এ-বন্ধনে, মানব না এ-শৃঙ্খলে – তরুণসমাজ, মাঝবয়সী ও বয়সী সবাই একাট্টা। আমাদের দাবি প্রাণের। সংস্কৃতির। অধিকারের। পাকিস্তানের বয়স তখন তেরো-চৌদ্দো। আমাদের মূল সাংস্কৃতিক বন্ধনটি হাজার বছরের বাঙালি ও বৃহত্তর…
-

পোট্রেটটা তোমার কাছে থাক
অপূর্ব, কেমন আছ? ফোনে কথাটা শুনে সে চমকে ওঠে। এই টোনে এই ঢংয়ে তাকে মাত্র দুজন ডাকত। এক. সাহিত্যিক আতিউর, দুই. মানসী। আতিউর সাহেবের বাড়ি কুষ্টিয়া। চোস্ত বাংলা বলতেন। তার মধ্যেও একটা শান্তিপুরি টান ছিল। তিনি মারা গেছেন তিন-চার বছর। তাহলে বাকি থাকে মানসী। কিন্তু কণ্ঠটা মেয়েলি নয়। পুরুষঘেঁষা। এটাই অপূর্বর সামনে দ্বিধা তৈরি করে।…
-

অন্ধ্রের অপ্সরা
ভাদ্রের আকাশ। ভিক্টোরিয়ার মাথায় মেঘের ছায়া। আকাশ ঘোলাটে। শরৎ নির্বাসনে। পাঁচজনের দলে ফজল টিকিট কাউন্টার থেকে অনেকটা পেছনে। পথনির্দেশক মানিক সর্বাগ্রে। প্রহরায় পুরুষকর্মীর মধ্যে একজন যুবতী। একহারা চেহারা। হালকা খয়েরি ইউনিফর্মে বেশ সপ্রতিভ। টেপাপুতুলের অবয়ব। যৌবনের শ্রীশোভিত। ফজলের কানে আসছে … টিকিটমূল্যের দস্তুর। সঙ্গে চারজন বাংলাদেশি … একশ টাকা … পার হেড … ফজল মেয়েটির…
-

কফি হাউসের সেই আড্ডাটা
কলেজ স্কয়ারকে কলকাতার করোটি বলা যায়। আজকাল আবার বিজ্ঞানী-মন্তব্য – হৃদয় নেই। মানব আচরণের সবকিছু মস্তিষ্কজাত। নিউরনের বিভিন্ন অংশের ক্রিয়াকর্ম। সুতরাং ওপেন হার্ট সার্জারি করে হৃদয় বিয়োগ করা যুক্তিযুক্ত। আসলে এই স্কয়ারে মস্তিষ্কেরই প্রাধান্য। পাশে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরে বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট, বইয়ের আড়ত। পুবে মহাবোধি সোসাইটি, বিনোদনের ব্যবস্থাও অনেক। বাঁধানো পুষ্করিণী। সকাল-বিকেল হণ্টন-যোগ। বিদ্যমান বিদ্যাসাগরের…
-

ফ্যালাসি অব ফোর টার্মস
কদিন থেকে একটু বেশি গম্ভীর দেখাচ্ছে অয়নকে। পঁয়ষট্টির নিপাট ভদ্রলোক। অন্তর্মুখীন ব্যক্তিত্ব। এখন আরো অভ্যন্তরে। নানা কাজে ফজলকে বেশ কয়েকবার ওর আবাসে অবস্থান …। অন্য ঋতুতে সমস্যা নেই; কিন্তু গ্রীষ্মে হুগলির মহকুমা শহর আরামবাগে না আছে বাগ-বাগিচা, না আরাম। সারা পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জ্বলন্ত। যদিও শহর ঘেঁষে বয়ে চলেছে দ্বারকেশ্বর। মাইক্রো প্রভাব পড়তে পারত,…
