বাল্যে গড়ে মাটির পুতুল খেলেছি তোমার শরীর নিয়ে
দুরন্ত কৈশোরে মুছেছি ঘাম ওই শুভ্র আঁচল দিয়ে
যৌবনে কাঁধে রাইফেল ঘুরেছি নদীর পারে পথে-প্রান্তরে
ছুড়েছি গ্রেনেড তোমার জন্যে বিজাতীয় শত্রুর বাঙ্কারে
প্রৌঢ়ে স্বজন নিয়ে গড়েছি পুতুলের একান্ত সংসার
বার্ধক্যে তুমি হয়েছ বেহুলা আরো আপন আমার
তোমাকে ছাড়া আর তো কোনো নিশিস্বপ্ন দেখিনি
তোমাতেই পেয়েছি খুঁজে আমার আপন পরিচয় জগৎজননী;
ওরা যখন বলেছে তোমার দারিদ্র্যের মলিনতার কথা
করেছে উপহাস তোমার ছেঁড়া শাড়ির বিষণ্নতার ব্যথা
তবু তোমাতেই রেখেছিলাম মাছচক্ষু অর্জুনের মতো
যেমন নীল ধ্রুবতারায় রাখে নাবিক তার স্বপ্নসাধ যতো
একদিন ওই ব্যথাতুর মুখে দেখেছিলাম বেহুলা তোমার রূপ
সেই থেকে ঈশ্বরকে চাইনি আর দিইনি কোনো অপার্থিবে ডুব॥

