শামসুল আরেফিন
অগ্নিশালার একটি চুলের উপর দন্ডায়মান আমি
পেন্ডুলামের মতো দুলছে আদালত কখনো ডান কখনো বাঁয়ে
এখানে ভারসাম্যের কোনো অবস্থান নেই শরীরে, প্রিয়তমা
আমার জিহবার হিসাব চাইতে এসেছে যে অডিটর
জবাব তৈরির আগেই তারবার্তা চলে আসে
প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অনুপুঙ্খ তালিকা প্রকাশের
জারি হয় নির্দেশনামা
মানুষ আমি
একবার দুমড়ে ভেঙে আবার উঠে দাঁড়াই বোনাস জীবনের
মুখরণে
আগুনে-বাতাস আমাকে খাবলে খায়
দেহের অংশবিশেষ কামড়ে ধরে বিষধর দাঁত
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে লিপ্ত আমি
পরীক্ষার খাতা জমা নেওয়ার শেষ ঘণ্টি বাজার কাতরতা
আমাকে গ্রাস করে ফেলে
অনলবৃষ্টি প্রপাতে আমি স্নাত হতে থাকি
পরিযায়ী চাঁদের দাদন উপচে পড়ে
অবিনাশী ক্ষোভে
প্রবাদ-প্রবচনের কারখানায় জর্জরিত সভ্যতা
নিত্যনতুন বোতলজাত হয় পুরনো শরাব

