বীরেন মুখার্জী
লিলিথ, যদি জেগে ওঠো
পথ ছাড়া প্রতীক্ষা করে না কেউ –
আশ্বিনের ভোর, ভাঙা চাঁদ, চলে যায় সে-ও
ঋতুর অতলে
লিলিথ, যদি জেগে ওঠো ফের
নিরঙ্কুশ প্রতিবাদে আবার দাঁড়াবো;
দৃষ্টিকটু ঘুম ছেঁকে-ছেনে –
কথা আর কবিতায়
হেঁটে হেঁটে মিশে যাবো দ্রোহে –
সমতা ও সময়রেখায়
লিলিথ, যদি জেগে ওঠো শরৎশয্যায়
শব্দরহিত মাঠে তুলে দিতে ফসলের সুর
আসবো আবার, নির্জন দুয়ার খুলে
যৌথজন্মভূমে
উজ্জ্বল দিনের প্রত্যাশায়
কিছু নক্ষত্র অপেক্ষা করে দূরের আকাশে
অর্ধনমিত
প্রণয়ের বাঁকে কোনো নৈর্ঋত থাকে না –
চোখের ভেতর, বহুকাল, উড়ে যায় নকলনবিশ;
রহস্যরাত্রির মেধা ছিন্নভিন্ন শেষে – গোপন প্রতিভা!
প্রতিদিন বিকেল বাজিয়ে যায় গন্তব্যের ট্রেন,
অবগুণ্ঠন ফুঁড়ে উঠে আসে তেইশ বছরের খনিজ
গোপনের সহজাত শীর্ষ বেজে ওঠে অলংকারসমেত।
চারু, দেখো – ঋতুর চমকে সপ্রতিভ এই সংলাপ
বহুমুখী ক্লেদ নিয়ে শীতের সায়াহ্নে নির্নিমেষ ঝরে;
প্রণয়ের বাঁকে কোনো নৈর্ঋত থাকে না, জেনেও
অর্ধনমিত দুটি চোখ ভাঁজ খোলে – সুগন্ধসম্ভারে!

