কতবার মনকে বলেছি, না –
সামনে আর এগিও না,
একটু থামো।
একটু বসে থাকো।
বসে-বসে একটু ভাবো।
সারা জীবন লম্ফ ঝম্প করেছ অনেক –
কিছুই হয়নি; তবুও ভাবো,
তোমার নাম রিপ ভ্যান উইঙ্কল।
ঘুম-ঘুম-অজস্র ঘুমের সুখে
অজস্র ঘুমের মধ্যে ডুবে আছো তুমি –
মাঝেমধ্যে ভুঁশ করে ভেসে উঠছ
‘দেবদাস’ বা ‘চারুলতা’
বা ওইরকম কোনও ছবির লোকেশনে
চারপাশে তাকিয়ে দেখছ
তোমার কবিতার পঙ্ক্তি গায়ে গতরে লিখে ছুটছে
অজস্র রিকশা ট্রাক বাস বেবি ট্যাক্সি
তুমি দেখতে পাচ্ছো
সবসময় কাঁচুমাচু তোমার ধনকুবের বন্ধুকে
– দুপাত্র গেলার পর যে খুব সহানুভূতিশীল হয়ে যায়
তোমার দুঃখকষ্টে
দেখতে পাচ্ছো
তোমার জীবনের প্রথম চুম্বনসঙ্গিনীকে
– এখন দেখা হলে যে খুব ‘আহা!’ হয়ে যায়
তোমার প্রতি
শোনো রিপ ভ্যান উইঙ্কল,
তুমি কিন্তু খুব হাবুডুবু খাও ঘুমের মধ্যে
তেমন সাঁতার জানো না
তবু অ্যাকোয়ারিয়ামের সোনালি-রুপালি মাছের
পিছু-পিছু সাঁতার কেটে
তুমি চলে যাও কত-কত দূরে –
সেখানে সারা জীবন দাদিমা’র কোলে চড়ে তুমি
চারান বিলের গল্প শোনো
বাবার হুজ বুট জারসি নিয়ে চলে যাও ফুটবলের মাঠে
ঘ্রাণ পাও মায়ের ইলিশ ভাজার …
তাই বলি, আর কেন এগোবে তুমি –
একটু থামো।
এইখানে বসে থাকো। ভাবো।
২০.০৪.০৪

