অনতিদূরেই গঙ্গা – হাওড়ার হাত ধরে
পদ্মার হাওয়া বয়ে যায়
মেঘনার মোহনায় ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ!
চলে যায় দূর দেশে দেশে।
ট্রামলাইনের রেখা ধার করে পার্কসার্কাস
উত্তর চব্বিশ পরগণা ধরে একদিন পৌঁছে যাবে খুলনায়
কোনো এক মুখর বর্ষায়!
মনে তবু প্রশ্ন জেগে রয় – রেল গেদে কেন বেঁধে দেবে পথ
কতদূর যাবে – হরিদাস, রফিকুল?
পাখিরা পরস্পর চিরকাল সীমান্ত পেরিয়ে
এপারের প্রজাপতি ওপারের ফুলে বসবেই
মাটির হিসাবে কেন গড়বড়, বিভেদের হীন ভেদাভেদ
বঞ্চনা গঞ্জনা সীমালঙ্ঘনে – বিজড়িত বিরোধে বিপন্ন!
কী করে আটকে দেবে কাঁটাতারে বাঙালির ভাষা?
অন্তরে অন্তরে প্রবাহিত ফল্গুধারা –
মায়ের মুখের বোল
কী করে আটকে দেবে ঝরনাধারা – পাহাড়ের ঢল!
নদীপথে কাঁটাতার নেই
বরিশাল থেকে লঞ্চ আসে হলদিয়া
এপার ওপার করে সমবেদনার শত ভার
স্বজনের ভালোবাসা কৃতি-সংস্কৃতি দু-ভাগ ভূ-ভাগ, তবু
পাসপোর্ট-ভিসা বিনে প্রতিদিন হয় বিনিময়
ভাগ্যিস – বিভক্তবাদীরা এসবের খবর জানে না!

